বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন বিল দাখিল কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে কোনো ধরনের নেতিবাচক বা উদ্বেগজনক তথ্য নেই বলে নিশ্চিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংস্থাটির অধীনস্থ এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে মার্চ মাসের বেতন বিল সাবমিটের প্রক্রিয়াও পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ আগের তুলনায় আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং বড় ধরনের কোনো জটিলতার সম্ভাবনা নেই। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেতন প্রাপ্তির বিষয়টি কেবল বিল সাবমিট বা ইএমআইএস সেলের ওপর নির্ভরশীল নয়; এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনিক স্তর জড়িত রয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার (এমপিও) মো. জহির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের এপ্রিল ২০২৬ মাসের এমপিও ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) বিল সাবমিট কার্যক্রম আগামী ২১ বা ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ, ওই সময় থেকে ইএফটির ড্যাশবোর্ডে বিল সাবমিট করার অপশন চালু হবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তা চলবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইএফটি ড্যাশবোর্ডে বিল সাবমিট করে বেতন প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্ভুলভাবে বিল সাবমিট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসেই বিভিন্ন কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিল নির্ধারিত সময়ে সাবমিট হয় না। পরবর্তীতে এসব বিলম্ব প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে এবং সংশ্লিষ্টদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এই ধরনের জটিলতা এড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সময়মতো বিল দাখিল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতার প্রস্তাব প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রেরণ করেন। এরপর অনলাইন বিল দাখিলের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিকতা নিশ্চিত করার পর তা অর্থ ছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কয়েক বছর আগে পুরো বিল দাখিল ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসে। বর্তমানে এই পুরো কার্যক্রম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার ফলে বেতন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।
Leave a Reply