বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন নিয়ে বড় ধরনের দুঃসংবাদ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মার্চ মাসের বেতন প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে, তারপরও আইবাস (iBAS) সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় বেতনের তথ্য সাবমিট করতে না পারায় পুরো প্রক্রিয়াটি আটকে গেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহে দেশের পৌনে চার লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী তাদের বেতন হাতে পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মাউশির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মার্চ মাসের বেতনের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়ার পরপরই মাউশি কর্তৃপক্ষ আইবাস সফটওয়্যারে বেতনের তথ্য আপলোড ও সাবমিট করার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও তারা সফল হতে পারেনি। এই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তথ্য সাবমিট না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
সূত্র আরও জানায়, আইবাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে মাউশি। প্রতিনিয়ত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এমনকি যদি আগামীকাল বুধবার বিল সাবমিট করা সম্ভবও হয়, তাহলেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে চলতি সপ্তাহে বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। যদি এই সপ্তাহের মধ্যেও বিল সাবমিট করা সম্ভব না হয়, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পেতে আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখনো পর্যন্ত আইবাসে বেতনের তথ্য সাবমিট করা যায়নি। এ কারণে চলতি সপ্তাহে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাঠিয়ে থাকেন। এরপর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিল দাখিল করা হয় এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সর্বশেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের এই পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও তুলনামূলকভাবে অধিক স্বচ্ছ হলেও, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মাঝে মাঝে এমন জটিলতারও সৃষ্টি হচ্ছে।
Leave a Reply