অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পূর্ণাঙ্গভাবে পাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে সেগুলো সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন (বরিশাল-৩)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধনের জন্য চিহ্নিত ১৫টি অধ্যাদেশ সংসদে পুনরায় আনার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে তা উপস্থাপন করতে হবে।
তবে প্রতিবেদনে কোন কোন ধারা বা বিধানে সংশোধন আনা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, সংশোধনের সুপারিশ করা হলেও পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো খোলাসা করা হয়নি।
সংশোধনের জন্য সুপারিশকৃত ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নারী ও শিশু নির্যাতন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, ফৌজদারি কার্যবিধি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় ডাটা ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানব পাচার প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
সার্বিকভাবে, কমিটির এই সুপারিশ অনুযায়ী অধিকাংশ অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে পাস করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও একটি অংশকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
Leave a Reply