এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে প্রদান নিশ্চিত করতে অনলাইনে বেতন বিল দাখিলের নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনলাইনে বিল সাবমিট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চলতি মার্চ মাসের বেতন বিল আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে অনলাইনে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইএফটি পদ্ধতিতে প্রেরণ করা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে বেতন বন্ধ থাকার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে বলেও জানানো হয়েছে।
মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিল সাবমিট করা হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী এপ্রিল মাসের ৮ বা ৯ তারিখের মধ্যেই মার্চ মাসের বেতন পেয়ে যেতে পারেন। তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই অনলাইনে বিল দাখিলের অপশন চালু করা হয়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এখনই বিল সাবমিট করতে পারবেন।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাখিল করা তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই বিল প্রস্তুত ও দাখিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিমাসেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল সাবমিট করা বাধ্যতামূলক। বিল জমা দেওয়ার পর সেটির একটি কপি ডাউনলোড করে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির স্বাক্ষরসহ সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তা যাচাই করা যায়।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইএফটি পদ্ধতিতে প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগস্ট মাস থেকে মাসভিত্তিক অনলাইনে বিল সাবমিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ এমপিও সংক্রান্ত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে নিয়মিতভাবে বেতন বিল দাখিল করছেন।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য বেতন আলাদাভাবে নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হচ্ছে। কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে, পদত্যাগ করলে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকলে অথবা অনুপস্থিত থাকলে সেই অনুযায়ী তথ্য উল্লেখ করে বিল প্রস্তুত ও দাখিল করতে হবে, যাতে বেতন প্রদানে কোনো ধরনের অসঙ্গতি না ঘটে।
এছাড়াও অধিদপ্তর জানিয়েছে, আইবাস (iBAS) যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র বৈধ জনবলের তথ্যই বর্তমানে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এখনো যাচাই সম্পন্ন হয়নি, সেগুলো পরবর্তীতে হালনাগাদ করে ধাপে ধাপে বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply