বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন বিল দাখিল কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে দুঃসংবাদ জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংস্থাটির অধীনস্থ এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ভেলিডেশন রিপোর্ট সময়মতো না পাওয়ায় মার্চ মাসের বেতন বিল সাবমিটের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে যাবে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ শুরু হতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বেতন প্রাপ্তির সময়সূচিও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার (এমপিও) মো. জহির উদ্দিন। তিনি জানান, স্কুল-কলেজের মার্চ ২০২৬ মাসের এমপিও ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) বিল সাবমিট করার কার্যক্রম আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে এবং নির্ধারিতভাবে তা চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। তবে মূলত আইবাস সিস্টেম থেকে প্রয়োজনীয় ভেলিডেশন রিপোর্ট সময়মতো না পাওয়ার কারণেই বিল সাবমিট কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেটি কিছুটা পিছিয়ে দিতে হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সূচি মেনে ১৭ মার্চ থেকেই এমপিও ইএফটি বিল সাবমিট করার অপশন চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইবাস সিস্টেম থেকে ছুটির আগে প্রয়োজনীয় ভেলিডেশন রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এর ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে বিল সাবমিটের অপশন চালু করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটির পর আগামী ২৪ মার্চ আইবাস সিস্টেম থেকে ভেলিডেশন রিপোর্ট সরবরাহ করা হবে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই এমপিও ইএফটি বিল সাবমিট করার অপশন চালু করা হবে এবং এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিল অনলাইনে জমা দিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রস্তাব প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠিয়ে থাকেন। এই প্রস্তাব পাঠানোর পর অনলাইন বিল দাখিলের মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর সেটি অর্থ ছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কয়েক বছর আগে বিল দাখিল ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসে। এর ফলে এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত পুরো কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে বেতন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশাসনিক জটিলতাও অনেকাংশে কমেছে।
Leave a Reply