


মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই একুশের মূল চেতনা। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অগ্রযাত্রা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) প্রদত্ত এ বার্তায় তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগ কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি; বরং তৎকালীন পূর্ব বাংলার দীর্ঘ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তির প্রথম ধাপ রচনা করে। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালির স্বাধিকারচেতনা সংগঠিত হয়, যার চূড়ান্ত রূপ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির গণতান্ত্রিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার ভিতকে শক্তিশালী করেছে। একুশের সংগ্রামই আমাদের শিখিয়েছে—অধিকার আদায়ে ঐক্য, আত্মত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তা অপরিহার্য।
বাংলা ভাষার জন্য বাঙালির ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেসকো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে; ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আজ একুশ কেবল বাংলাদেশের নয়—এটি বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষের মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। বিশ্বায়নের চাপে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বহু ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে; একুশের চেতনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ভাষা হারানো মানে ইতিহাস ও সংস্কৃতির অমূল্য ভাণ্ডার হারানো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা শহীদ, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। একুশের চেতনা তাই কেবল অতীতস্মৃতি নয়; এটি ন্যায়, সমতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের বর্তমান প্রতিশ্রুতি।
বাংলাদেশে বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠীর ভাষা প্রচলিত। এ বৈচিত্র্য রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
কী করা যেতে পারে?
মহান শহীদ দিবস আমাদের শিখিয়েছে—ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন, ইতিহাসের ধারক এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি। একুশের চেতনায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সমতার যে অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
সব ভাষা শহীদের মাগফিরাত কামনা করে এবং মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য প্রত্যাশা করে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—ভাষার মর্যাদা, গণতন্ত্রের শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের রক্ষায় একুশের পথেই এগিয়ে যাব। 🇧🇩
Leave a Reply