ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এখনও মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা না হলেও শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলীয় চেয়ারপারসন তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কারা দায়িত্ব পেতে পারেন, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলেও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন-এর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এ দুজনের যে কোনো একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
এবারের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ওসমান ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩৮ ভোট। অন্যদিকে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৩২৯ ভোট। তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পূর্ববর্তী দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই এ আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী না দেওয়া হয়, তবে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পেশাজীবী ও শিক্ষক নেতা মো. সেলিম ভূঁইয়া, নুরুল হক নুর অথবা চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৪৫৪ ভোট। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নুরুল হক নুর পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট। আর চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট।
জানা গেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন—তা জানতে এখন সবার দৃষ্টি বিএনপির শীর্ষ বৈঠকের দিকে।
Leave a Reply