ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুব দ্রুত এ বিষয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের দিন সাধারণ ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বহাল থাকবে—গোপন কক্ষে কোনোভাবেই ছবি তোলা যাবে না।
এর আগে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করেছিল। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তোলে—
বিশেষ করে সাংবাদিক সমাজ, ছাত্রসংগঠন (ডাকসু) এবং ১১ দলীয় জোট এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে আসে।
ইসি সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী সংশোধিত নির্দেশনায়—
এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার—দুটোর মধ্যেই একটি ভারসাম্য রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসি সচিব আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক মহলের উপস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় গণমাধ্যমের অবাধ তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারত—এই উপলব্ধিও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, জনমত ও যুক্তিসংগত সমালোচনার প্রতি সংবেদনশীলতা থাকলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা আরও গ্রহণযোগ্য হয়। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই বাস্তবসম্মত পথ।
ভবিষ্যতে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে—
এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নির্বাচন কমিশনের একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত। এটি একদিকে যেমন ভোটার ও গণমাধ্যমের অধিকার রক্ষা করবে, অন্যদিকে ভোটের গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সুযোগও রাখছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ ধরনের গঠনমূলক সংশোধন ভবিষ্যতেও প্রত্যাশিত।
Leave a Reply