বর্তমান সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করতে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে চালু হয়েছে “পোস্টাল ভোট বিডি” অ্যাপ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এই অ্যাপে নিবন্ধন করার ফলে ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নামের পাশে OCV অথবা ICPV হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অনেক ভোটার এ বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
OCV (Out of Country Voter) বলতে বোঝায় এমন ভোটার যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ডাকযোগে ভোট প্রদান করার জন্য নিবন্ধন করেছেন। সাধারণত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হন। তারা পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করলে নির্বাচন কমিশন তাদের ভোট প্রদানের জন্য ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ফলে এই ভোটারদের ভোটার তালিকায় OCV হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তারা ভোটকেন্দ্রে সরাসরি গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। কারণ তাদের ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা এবং ডাকযোগে সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, ICPV (In Country Postal Voter) হলো এমন ভোটার যারা দেশের ভেতরে অবস্থান করলেও বিশেষ দায়িত্ব বা অবস্থানের কারণে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে পারেন না। যেমন—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোনো বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তারা পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করলে তাদেরও ডাকযোগে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয় এবং ভোটার তালিকায় তাদের ICPV হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ভোটাররাও সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না।
এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, যারা দায়িত্ব বা অবস্থানের কারণে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভোটাররা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা না করে পরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চান। কিন্তু একবার কোনো ভোটার OCV বা ICPV হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে তিনি আর সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না। কারণ তার জন্য আলাদা ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত থাকে এবং ভোটের পুনরাবৃত্তি বা অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
এ কারণে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের আগে ভোটারদের ভালোভাবে বিষয়টি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। যদি কেউ নিশ্চিত হন যে তিনি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাহলে পোস্টাল ভোট পদ্ধতি গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত। অন্যথায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন না করাই উত্তম।
সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভোটারদের এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত প্রচারণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে, তাহলে ভোটাররা বিভ্রান্তি এড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন। একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটারের সচেতনতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Leave a Reply