ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রবাসীদের ভোটদান কার্যক্রমে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে পোষ্টাল ভোট বিডি নামক একটি অ্যাপস ওপেন করেন। সেই কর্মসূচী ও অ্যাপসটিতে পরবর্তীতে দেশের মধ্যে অবস্থানরত যে সকল কর্মকর্তারা নিজ এলাকায় ভোটার কিন্তু চাকুরী করার সুবাদে দুরে অবস্থান করতে বাধ্য হয় তাদের সংযুক্তি নিশ্চিত করা এবং পাশাপাশি যারা নির্বাচনী দায়িত্বে কর্তব্যরত থাকবেন বিধায় নিজ ভোটার এলাকায় ভোটের দিন উপস্থিত থাকতে পারেন না। বিধায় তাদের মুল্যবান ভোটটি দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাদেরও এই কর্মসুচীর আওতায় অন্তুর্ভুক্ত করা হয়। যদিও এই পোষ্টাল ভোটের বিধান যে এবারই প্রথম আমাদের দেশে চালু করা হয় বিষয়টি কিন্তু মোটেও তেমন নয়। তবে অতীতে এই বিষয়টির বিধান থাকলেও সেভাবে এটির প্রচলন ছিল না বা গুরুত্ব পায়নি। এবার অন্তর্বতীকালীন সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে মুলত প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি করতে। পাশাপাশি দেশের ভিতরে চাকুরীরত ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা চাকুরীজীবিদের তবে সেখানে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য তা হলো চাকুরীজীবিদের ক্ষেত্রে আইবাস++ এর মাধ্যমে বেতন প্রদান বা প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে হবে।
এখন যে বিষয়টি নিয়ে আমার এই লেখা তা হলো কিভাবে পোষ্টাল ব্যালট ব্যবহার করতে হবে বা ভোট প্রদান করতে হবে-
প্রথমে আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো আপনাকে পোষ্টাল ভোট বিডি নামক অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে নিবন্ধন করার যোগ্যতা আমি উপরে উল্লেখ করেছি। তিন ধরনের ভোটার এর মাধ্যমে ভোট প্রদান করতে পারবেন-১) আপনি যদি প্রবাসী হোন। ২) আপনি যদি সরকারী চাকুরীজীবি হোন এবং আপনার বেতন যদি আইবাস++ এর মাধ্যমে হয়। ৩) আপনি যদি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বরত কোন ব্যাক্তি হোন।
আপনি রেজিষ্টেশন সম্পুর্ণ করার পর আপনার নিকট নির্বাচন কমিশন হতে ভোটের দিনের পূর্বেই ডাকযোগে খামের মধ্যে করে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধিত সব ভোটারের কাছে পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটাররা অ্যাপে দেয়া ঠিকানায় নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটসহ সাদা রংয়ের খাম পাবেন। খাম পাওয়ার পরপরই ভোটাররা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে খামের ওপর দেয়া কিউআর কোড স্ক্যান করবেন।
এতে তিনি যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া বহির্গামী খামে একটি পোস্টাল ব্যালট সম্বলিত হলূদ রংয়ের খামের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পেপার পাবেন। এর একপাশে ভোট দেয়ার নির্দেশাবলী ও অপর পাশে একটি ঘোষণাপত্র সম্বলিত একটি পৃথক কাগজ এবং একটি ফেরত খাম থাকবে যার রং সাদা। ওই খামে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানাও ছাপা থাকবে।
পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় পাঠানো ব্যালট পেপারে সব প্রতীক ছাপানো থাকবে। আর প্রতিটি প্রতীকের পাশে থাকবে ফাঁকা ঘর। ভোট দেয়ার আগে ভোটাররা নির্দেশনাপত্র পড়ে ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করবেন।
নিরক্ষর/অক্ষম ব্যক্তি অন্য একজন বৈধ ভোটারের সাহায্যে সংশ্লিষ্ট অংশ পূরণ করে সত্যয়ন করবেন। এই ঘোষণাপত্র/সত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া ব্যালট পেপারটি বৈধ হিসাবে গন্য হবে না।
প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপের মাধ্যমে অথবা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ভোটাররা বিষয়টি জানতে পারবেন। ভোট দেয়ার জন্য ভোটাররা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পাবেন এবং নির্দেশিকাতে প্রদত্ত পদ্ধতিতে ব্যালট পেপারে (ফরম-৭) মুদ্রিত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘরে টিক (√) চিহ্ন কিংবা ক্রস (x) চিহ্ন দেবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, ব্যালট হিসাবে দুই ধরনের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে যেখানে থাকবে একটি ব্যালট থাকবে দলীয় প্রতীক সম্বলিত ব্যালট এবং অন্য একটি ব্যালট থাকবে গণভোটের রায় দেওয়ার ব্যালট। যেটি নিম্বরূপঃ

পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোটার ভোট চিহ্নিত করার পর শুধুমাত্র ব্যালট পেপারটি ছোট খামে রেখে সেটি বন্ধ করবেন। পরে ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা ছাপানো খামে প্রবেশ করাতে হবে। পরে তা বন্ধ করে দ্রুততম সময়ে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার তার পোস্টাল ব্যালটটি ট্র্যাকও করতে পারবেন।
Leave a Reply