1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

শিক্ষা বান্ধব সরকারের আরও একটি নমুনা দেখাল বর্তমান সরকার-শিক্ষায় এডিপি বরাদ্দ আরও কমল

  • Update Time : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২২ Time View
শিক্ষা বান্ধব সরকারের আরও একটি নমুনা দেখাল বর্তমান সরকার-শিক্ষায় এডিপি বরাদ্দ আরও কমল

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্তটি কেবল একটি আর্থিক সমন্বয় নয়—এটি দেশের শিক্ষা নীতি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ভবিষ্যৎ ধারা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুযায়ী শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। তবে বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) প্রায় ৯ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ নামিয়ে আনা হয়েছে ১৮ হাজার ৬২৮ কোটিতে—যা মোটের উপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কাটছাঁট

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯টি সদস্য দেশের মধ্যে অর্থনীতির আকারের তুলনায় সবচেয়ে কম শিক্ষা বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অবস্থান করছে উপরের দিকেই। দেশের জিডিপির ২ শতাংশেরও কম অংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ হয়—যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায়ও কম। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরেই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কম ছিল; তার ওপর আবার আরএডিপিতে বড় ধরণের ছাঁটাই, ফলে নীতি পর্যায়ে শিক্ষার অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

কোন খাতে কত বরাদ্দ কমল বা বাড়ল

সংশোধিত এডিপির খসড়ায় দেখা যায়, বরাদ্দ কমার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে। এই খাতে বরাদ্দ কমেছে ৪৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। আগে যেখানে বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯১৭ কোটি, তা নেমে এসেছে ৬ হাজার ৩১৫ কোটিতে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন, অবকাঠামো, গবেষণা তহবিল, ল্যাব ও প্রযুক্তি উন্নয়ন–এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিপরীতে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে — প্রায় ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা যোগ করে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৪ কোটি টাকায়। যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষায় অবকাঠামো, উপবৃত্তি, উপকরণ সরবরাহ ও স্কুল উন্নয়ন প্রকল্পের গতি তুলনামূলক ভালো। তবে এই বাড়তি বরাদ্দও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ সামান্য—মাত্র ৫৩ কোটি টাকা বা ১.৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অথচ শিল্পায়নের সাথে সমন্বিত দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য এ খাতকে গুরুত্ব বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিনের।

বরাদ্দ কমানোর পেছনে সরকারের যুক্তি

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে—
গত ৫ মাসে শিক্ষা খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকল্পে বাস্তবায়ন হার খুবই কম। যেমন—

  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার মাত্র ১৩–১৪%
  • মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ব্যয় হয়েছে ১০%–এরও কম
  • বড় অংশের বরাদ্দ অনাবহৃত থেকে গেছে

সরকারি ভাষ্যে বলা হচ্ছে —

“যেখানে ব্যয় সক্ষমতা নেই, সেখানে বরাদ্দ ধরে রাখার যৌক্তিকতা নেই; তাই আরএডিপিতে সমন্বয় করা হয়েছে।”

অর্থাৎ বরাদ্দ কমানোর সরাসরি কারণ হিসেবে প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, টেন্ডার জটিলতা, ধীর গতি ও প্রশাসনিক বিলম্বকে দায়ী করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা ও উদ্বেগ

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন —

  • শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এমনিতেই কম
  • তার ওপর মাঝপথে এসে তা ছেঁটে ফেলা নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির সংকটের ইঙ্গিত
  • শিক্ষা এখনো অনেক নীতিনির্ধারকের কাছে ব্যয়, বিনিয়োগ নয়

তাঁর মতে—

  • শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ না থাকায়
    ব্যক্তি ও পরিবারকেই ব্যয় বহন করতে হচ্ছে
  • বর্তমানে প্রায় ৭০% শিক্ষা ব্যয় ব্যক্তিখাতনির্ভর
  • এতে নিম্ন আয়ের পরিবার সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে
  • শিক্ষা ক্রমেই সামাজিক বৈষম্যের উৎসে পরিণত হচ্ছে

তিনি আরও বলেন—
নীতিগত অগ্রাধিকারের অভাবে
শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষকের সক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের প্রভাব দেখা যেতে পারে—

  • সরকারি স্কুল–কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হওয়া
  • নতুন স্কুল ভবন, ল্যাব, লাইব্রেরি নির্মাণ স্থগিত থাকা
  • উচ্চশিক্ষায় গবেষণা তহবিল সংকোচন
  • কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি ধীরগতি
  • শিক্ষা খাতে বেসরকারিকরণ ও বেসরকারি ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধি
  • শহর–গ্রাম শিক্ষাবৈষম্য আরও বাড়া

অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সাশ্রয়ের বিনিময়ে
দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সংক্ষেপে মূল বার্তা

এডিপি বরাদ্দ কমানো কেবল বাস্তবায়ন সমস্যার প্রতিফলন নয়—
এটি দেশের শিক্ষা খাতের প্রতি নীতি-অগ্রাধিকার কতটা দুর্বল, তারই বড় ইঙ্গিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত মানবসম্পদ গঠন ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না;
তাই শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কাটছাঁটের পরিবর্তে দুর্বলতা চিহ্নিত করে সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল অধিক যৌক্তিক পথ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme