বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সর্বজনীন বদলি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বদলি নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হলেও কিছু ঘাটতির কারণে তা ফেরত এসেছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন শেষে নীতিমালাটি পুনরায় উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সংশোধিত বদলি নীতিমালা কেন নতুন করে জারি করা প্রয়োজন—সে বিষয়ে ফাইলে স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা নোট সংযুক্ত করা হয়নি। এই কারণেই উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ফাইলটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখন নীতিমালার যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে পুনরায় ফাইল উপস্থাপন করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালা ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানোর সময় কেন এই নীতিমালা সংশোধন ও পুনরায় জারি করা হচ্ছে—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ ঘাটতি পূরণ করে আবারও ফাইল পাঠানো হবে।
সংশোধিত বদলি পরিপত্র কবে নাগাদ জারি হতে পারে—এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, এখনই নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। ফাইল নতুন করে উপস্থাপনের পর পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে জানা গেছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বদলির কোনো সরাসরি সুযোগ ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ উদ্দেশ্যে একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে শিক্ষকদের একাংশের করা রিট, বদলি সংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাসহ নানা জটিলতার কারণে এখনো বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ এসব জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সর্বজনীন বদলি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। শিক্ষা উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র জারি করা হবে।
Leave a Reply