সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নসংক্রান্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশনের সভায় এ বিষয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সভায় পে-কমিশনের খসড়া প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কিছু সংশোধনী এনে পরবর্তী সময়ে আবারও পূর্ণ কমিশনের সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, রিপোর্ট চূড়ান্ত করার আগে অন্তত আরও তিনটি পূর্ণ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চলতি ডিসেম্বর মাসে দুটি এবং জানুয়ারির শুরুতে আরেকটি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে জানুয়ারি মাসের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে পে-কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কমিশনের এক সদস্য জানান, পে-স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে। প্রথমে কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দেবে, এরপর তা সচিব কমিটির অনুমোদনের জন্য যাবে। সচিব কমিটির অনুমোদনের পর রিপোর্ট উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর গেজেট জারি করা হবে।
ড্রাফটে গ্রেড সংখ্যা ও বেতন কাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিশনের ওই সদস্য বলেন, ড্রাফট এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই বেতন ও গ্রেড নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে কমিশন অতিরঞ্জিত নয়, বাস্তবসম্মত সুপারিশই করবে বলে তিনি জানান।
এদিকে নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের দেওয়া মতামত চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে পে-কমিশন। কর্মচারীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন বা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণায় কমিশন বিচলিত নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সরকারি পদক্ষেপের কারণে পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা আপাতত কঠোর কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলোচনার পথে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
কর্মচারী নেতারা জানিয়েছেন, তারা চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই দাবি আদায়ের কর্মসূচি দেবেন এবং অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার নবম পে-স্কেল প্রণয়নের জন্য পে-কমিশন গঠন করে, যার ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যদিও কর্মচারীদের দাবি ছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ।
Leave a Reply