সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ফের বৈঠকে বসছে জাতীয় বেতন কমিশন (পে কমিশন)। সচিবালয়ে বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সভায় পে-স্কেল সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
পে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন থেকে পাওয়া মতামতগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে এখনো পুরো প্রতিবেদন লেখার কাজ শেষ হয়নি। জটিলতা থাকায় চূড়ান্ত সুপারিশে পৌঁছাতে আরও কয়েকটি সভার প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, কর্মচারীদের সাম্প্রতিক মহাসমাবেশ কিংবা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণায় কমিশন বিচলিত নয়। বরং তারা বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য একটি বেতন কাঠামো তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রতিটি প্রস্তাব লিপিবদ্ধ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যা শেষ হতে আরও সময় লাগবে।
পে কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলন ঠেকানো বা আশ্বাস দেওয়া কমিশনের দায়িত্ব নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুপারিশ প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে সাংবাদিকদের ‘ইঙ্গিত’ পাওয়া যাবে এবং তখন কমিশনের চেয়ারম্যান বিস্তারিত জানাবেন।
এদিকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয়ে আন্দোলন দমন ও প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন-পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তে পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আপাতত কঠোর কর্মসূচি থেকে সরে এসে তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, সব দাবি রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় হয় না। পে-স্কেলের দাবি তারা আলোচনার মাধ্যমেই আদায় করতে চান। একইসঙ্গে সচিবালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভেতরের ও বাইরের কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ মনোভাবও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব বেল্লাল হোসেন জানান, অর্থ উপদেষ্টা সালেহ আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী স্পষ্ট করে বলেছেন, চাকরির বিধিমালা ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস মেয়াদি পে কমিশন গঠন করে। যদিও কমিশনের হাতে সময় রয়েছে, তবে কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি—১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
Leave a Reply