বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ফখরুল বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে এসে পৌঁছাবেন। দলের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে যে বাধা-বিপত্তি দেখা দিয়েছিল, তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে সেই বাধা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে।
২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জরুরি পরিস্থিতির পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ কারাবাস শেষে ২০০৮ সালে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সপরিবারে লন্ডনে যান। সেখান থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি এবং ১৬ বছর ধরে যুক্তরাজ্যেই অবস্থান করছেন। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজা হয়, আবার কিছু মামলায় পরবর্তীকালে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতি মিলেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিক পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর থেকেই বিএনপি নেতাদের মধ্যে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ শুরু হয়। যদিও তারা কেউই এতদিন নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি, এবারই প্রথম তার ফেরার দিন প্রকাশ করলো দলটি।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে আলোচনা তীব্র হলে অনেকে ধারণা করতে থাকেন, তারেক রহমান জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরতে পারেন। এ সময় লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি একটি বার্তায় জানান, মায়ের সংকটময় মুহূর্তে পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা তার প্রবল। তবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে তিনি নিতে পারেন না—এ বিষয়ে জটিল রাজনৈতিক ও আইনি বিবেচনা রয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, তার এই আগমন বিএনপির আন্দোলন-সংগঠনকে নতুনভাবে চাঙা করতে পারে; অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়তে পারে। ফলে ২৫ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply