ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ১১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই ভাষণে তিনি জানান যে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ক গণভোটের তফসিলও প্রকাশ করা হবে, যা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিইসি তাঁর ভাষণে বলেন, নির্বাচন কমিশন চলতি বছর একটি স্বচ্ছ ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরি করেছে। তিনি জানান, কমিশনের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে ভোট গ্রহণ, মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নতভাবে পরিচালিত হতে পারে। আচরণবিধি বা কোড অব কন্ডাক্টে যেসব পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হয়েছে, তা রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের পরামর্শের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। সিইসির ভাষ্যে, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের আস্থা অর্জন করা এবং নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ধারার সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দাঁড় করানো।
এরই আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ভাষণটি বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে রেকর্ড করা হয়। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং জানান যে প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সমাপ্ত হয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর রাতে নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব জায়গা থেকে পোস্টার, ব্যানারসহ নির্বাচনসংক্রান্ত প্রচারসামগ্রী অপসারণ করতে হবে। এটি মূলত নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য এবং আচরণবিধি কার্যকর রাখার অংশ হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর এই আশ্বাস নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এদিকে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, এবং দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিটিভির সেই লাইভ সম্প্রচার নিজেদের প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। এর ফলে তফসিল ঘোষণার মুহূর্তটি সারাদেশের মানুষের কাছে সরাসরি উপস্থাপিত হয়।
Leave a Reply