জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নকে ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মতে, বেতন-ভাতা সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী সংগঠন ইতোমধ্যেই আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময় হওয়ায় পে-স্কেল বিলম্বিত হলে তা দ্রুত মাঠে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পে-কমিশন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি, ফলে তারা কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের পক্ষ থেকে যে মতামতগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের দপ্তরে সন্নিবেশ করা হচ্ছে। এসব মতামতের সারসংক্ষেপ তৈরি করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যাতে সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে সব দিক থেকে বিষয়গুলো যাচাই করা যায়। সূত্র বলছে, রিপোর্টটি চূড়ান্ত করতে কমিশনের আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করছে যে নির্বাচনের আগে পে-স্কেল নিয়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তাদের জানা আছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না থাকায় তারা এখনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
পে-কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত সুপারিশ বা দিকনির্দেশনা কমিশনে আসেনি। যেই মুহূর্তে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ দেবে, তখনই কমিশনের চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্য এক সদস্য জানান, সরকারের সঙ্গে মৌখিক যোগাযোগ হচ্ছে, এবং তারাও চান যেন পে-স্কেল ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। তাই তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর আগেও, ৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, কর্মচারী সংগঠনের নেতারা ইতোমধ্যে আলটিমেটাম দিয়েছেন—যদি পে-স্কেল দ্রুত চূড়ান্ত না হয়, তাহলে তারা জানুয়ারিতে, অর্থাৎ ভোটের আগেই, আন্দোলনে নামবে। এতে নির্বাচন-পূর্ব সময়টিতে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।
বৈঠকে আরও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়—জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রবণতা। কোর কমিটির মতে, কিছু শিক্ষার্থী বর্তমানে তুচ্ছ বা ‘অযৌক্তিক’ বিষয়েও রাস্তায় নামছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের সময় এ ধরনের আন্দোলন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে।
সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের ক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য আন্দোলন এবং নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের চাপ—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত, পে-কমিশনের রিপোর্ট চূড়ান্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি—সবই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply