বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের পাঠদানের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি হওয়া ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এ জানানো হয়, এখন থেকে শিক্ষকরা তাদের নিজস্ব মূল বিষয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও দুই বিষয়ে ক্লাস নিতে পারবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও বিষয়ভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষককে কোন কোন বিষয়ে ক্লাস নিতে হবে—তা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতি শিক্ষকের অন্তত দুইটি অতিরিক্ত বিষয়ে পাঠদানের সক্ষমতা থাকতে হবে বলে নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনে নিম্ন শ্রেণির ক্লাস নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষককে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কোনো সহ-পাঠ্যক্রমিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত হবে। নতুন নীতিমালায় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদেরও ক্লাস নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে—প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষকে সপ্তাহে ন্যূনতম ৫টি এবং উপাধ্যক্ষ বা সহকারী প্রধান শিক্ষককে ন্যূনতম ৮টি ক্লাস নিতে হবে।
নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে একটি হলো উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’ পদ বিলুপ্তি। একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদের নিয়োগযোগ্যতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং মোট ১৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে, অথবা সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুই-তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
নতুন নীতিমালায় অনুপস্থিতির বিষয়ে কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো শিক্ষক বিনা অনুমতিতে ৬০ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে তাকে এমপিওভুক্তির জন্য আর বিবেচনা করা হবে না। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ৬০ দিনের পর ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রচলিত নিয়মে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এর ফলে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া নতুন জনবল কাঠামোয় কলেজের একাদশ শ্রেণিতে নতুন শাখা খোলার ন্যূনতম শিক্ষার্থীসংখ্যার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ খোলার জন্য প্রতিটি বিভাগে কমপক্ষে ৩৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে, আর বিজ্ঞান বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ন্যূনতম ২৫ জন শিক্ষার্থী। তবে মফস্বল এলাকার জন্য এই শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে—মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ন্যূনতম ৩০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম ২০ জন শিক্ষার্থী থাকলে শাখা খোলা যাবে। এতে জনবল ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা আরও বাস্তবসম্মত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply