পৃথিবীর তথা এদেশের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। নদীর গতিপথ পরিবর্তন না হলেও নদীর স্রোত কখনও কখনও থমকে না দাঁড়ালেও স্রোতের গতি কমে যেতে পারে। কিন্তু হয় না শুধু এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন। কেন হয় না জানেন? কারণটি হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ভাগ্যেন্নোয়নের জন্য যাদের কাজ করার কথা তারাই কিনা তাদের ভাগ্যে বিড়ম্বনা কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সকল সময়। তাহলে বুঝেন রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে রক্ষা কর্তা হবে কে?
অনেকে হয়ত বলবেন কেন বললাম কথাগুলো? কেন এত হতাশা? কারণ হলো এই- এদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য এদেশের সরকার ব্যবস্থা যখনই কোন ভালো কিছুর উদ্যোগ গ্রহণ করে তখনই সেই ভালো কাজের প্রধান প্রতিবন্ধক হিসাবে বাঁধা বা প্রধান অন্তরায় হিসাবে দাঁড়ায় কে জানেন? তা হলো মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আমি বলছি না মাউশির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ সকল অন্যায়ের সাথে জড়িত। তবে বেশ কিছু সংখ্যকই এর সাথে জড়িত তা নিংসন্দেহে বলা যায়।
মাউশির নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটির ড্যাশবোর্ডে তাদের পরবর্তী মাসের বিল সাবমিট করতে হবে এর ব্যাতিক্রম হলে পরবর্তী মাসের বেতন ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীগণ ঐ মাসে আর পাবে না। এই নির্দেশনা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। সময়মতো ইএফটি বিল সাবমিট করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামুলক। কিন্তু সময়মতো বিল সাবমিটের অপশন চালু করা মাউশির জন্য প্রযোজ্য নয়। মাউশি যেন এখানে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই তৈরি করে আর নিজেই তা লংঘন করে অনায়াসে এখানে কারও কিছু বলারও নাই করারও নাই।
আমি নিশ্চিত মাউশি এ মাসেও কোন না কোন কারণ ঠিক তৈরি করে রেখেছে অজুহাত হিসাবে। হ্যাঁ এ মাসে তো অজুহাত হিসাবে দেখাবে যে, যেহেতু এ মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়িভাড়ার নতুন হিসাব হবে তাই সকল শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য সেই হিসাব সঠিক ভাবে করে ইএফটির বেতল বিলের সকল প্রসেস তৈরি করতে সময় লাগছে। আগামী থেকে আর এ ধরনের সমস্যা হবে না। এধরনের একটি বার্তা মাউশি থেকে প্রদান করা হবে। যা প্রতিনিয়ত প্রতিমাসে মাউশি থেকে বলা হয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের। কিন্তু প্রতিমাসে যে লাউ সেই কদু।
আগামী রবিবার যখন অফিস খোলার পর নিশ্চয়ই ইএফটির ড্যাশবোর্ডে বিল জমার অপশনে নভেম্বর মাস চালু করবে বলে হয় না। যদি সেটাই হয় তাহলে বিল সাবমিট করতে করতে তো মাসের প্রায় শেষ হয়ে যাবে, আর যদিও বা আগামী রবিবার বিল সাবমিট করা শুরু হয় তাহলেও তো ২-৩দিন সময় দিতে হবে তাওতো একই ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সর্বশেষ যে কথাটি বলতে চাই এভাবে যদি প্রতিমাসে কোন না কোন অজুহাতে হয়রানি অব্যাহত থাকে তাহলে তো মাউশির নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন জাগবে সকলের মনে।
Leave a Reply