বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নোটিশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নোটিশে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ধাপে ধাপে বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে— বর্তমান আর্থিক কাঠামোর ভেতর থেকেই বাড়তি ভাতা প্রদান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারী তাদের মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা, অর্থাৎ নির্ধারিত হারে হিসাব কম পড়লেও দুই হাজার টাকা থেকেই ভাতা শুরু হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ বাড়ানো হবে, ফলে মোট বাড়ি ভাতা দাঁড়াবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশে। এতে বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির দাবি পূরণ হলো বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
তবে বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্তও যুক্ত করেছে মাউশি। বলা হয়েছে, এই সুবিধা কার্যকর হলেও পূর্ববর্তী সময়ে কোনো ধরনের বকেয়া বা আর্থিক পাওনা সৃষ্টি হবে না। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণীত জনবল কাঠামো, নীতিমালা এবং আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম, ভাতা হিসাবের ত্রুটি কিংবা বিধি লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে বিল-পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষকেই তার দায়ভার বহন করতে হবে, সরকার বা মাউশি কোনো দায় নেবে না বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়।
দেশের সকল বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রেরিত এই নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন মাউশির সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাসময়ে নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply