বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করেও তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা সচিবের দপ্তরে পাঠাতে পারেনি। মন্ত্রণালয়ের দুজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে প্রতিবেদনটি স্বাক্ষরবিহীন অবস্থায় আটকে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই নিয়োগ নীতিমালার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া আটকে যায়।
১৯ নভেম্বর বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানায়, মাধ্যমিক-২ শাখার যুগ্মসচিব হেলালুজ্জামান সরকার এবং একই শাখার আরেকজন যুগ্মসচিব কর্মস্থলে না থাকায় প্রতিবেদনটি কমিটির পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে দুই কর্মকর্তা অফিসে যোগ দিলে তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করে প্রতিবেদনটি অবশেষে শিক্ষা সচিবের দপ্তরে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক–২) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন সচিবের দপ্তরে পাঠানো হবে। সচিব যদি কোনো সংশোধনী পরামর্শ দেন, তা যুক্ত করে নীতিমালা প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের আগে আরও একটি যাচাই-বাছাই পর্ব অতিক্রম করতে হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়—বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের নিয়োগ এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রচলিত প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
অনেক দিন ধরেই পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। সেকথা বিবেচনায় রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্বের জায়গায় আনার লক্ষ্যে সরকার নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেছে বলে মনে করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারও এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে মেধাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার এই পরিবর্তন সরকারের বৃহত্তর শিক্ষা সংস্কার উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply