বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক মো. হুমায়ন কবির সেখকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের নতুন সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারি কলেজের অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. তরিকুল ইসলামকে অবসর সুবিধা বোর্ডের সহকারী পরিচালক হিসেবে নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন সচিব—কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব শরীফ আহমদ সাদী এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব শাহজাহান আলম সাজু—দুজনই রহস্যজনকভাবে পলাতক রয়েছেন। তারা দুজনেই ছিলেন বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। তাদের অনুপস্থিতির কারণে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে ছিল।
তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুই প্রতিষ্ঠানের পদগুলোতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘনিষ্ঠ দুই নেতা তৎপর ছিলেন। তারা দুজনই বহু বছর আগে বেসরকারি কলেজ থেকে অবসরে গেছেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগে একই দুই ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ার চেষ্টায় তারা এই সংবেদনশীল প্রশাসনিক পদগুলোতে বসতে চাইতেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহজাহান সাজু এর আগেও এক উপনির্বাচনে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য এমপি হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচারিত ছিল। তার বিরুদ্ধে কল্যাণ ট্রাস্টে দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ বহু পুরনো। শরীফ সাদীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল, যা তদন্তাধীন অবস্থায় তারা হঠাৎ গা-ঢাকা দেন।
নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সেবা প্রদানে গতি ফেরানোর প্রত্যাশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply