বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এই প্রক্রিয়া পুনরায় সচল করতে ইতোমধ্যে বদলি নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যেই নীতিমালা সংশোধনের কাজ শেষ করা হবে এবং এরপর তা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হবে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় নীতিমালা সংশোধনের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী, মাউশির উপপরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী, সহকারী পরিচালক এস. এম. মোসলেম উদ্দিনসহ টেলিটক ও এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের কর্মকর্তারা।
কর্মশালার একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে শিক্ষা প্রশাসন চাপে রয়েছে। তাই দ্রুত বদলি নীতিমালা চূড়ান্ত করার তাগাদা এসেছে উচ্চপর্যায় থেকে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই নীতিমালা সম্পন্ন করে তা টেলিটকের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করা যায়।
কর্মশালায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টেলিটককে বদলি সংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে টেলিটককে লিখিতভাবে জানানো হবে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো।
তিনি আরও জানান, ‘নিজ জেলায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিলে বিপুল বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এমপি-মন্ত্রীর সুপারিশে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানে বদলির হিড়িক পড়ে যাবে। এজন্য যেসব শিক্ষক নিজ জেলা থেকে দূরে কর্মরত আছেন, তাদের বদলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। কর্মশালায় এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নিজ জেলায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আপাতত বদলির আওতায় আসবেন না।’
প্রসঙ্গত, এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে আসছেন, যা শিক্ষকতার পেশাগত বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এজন্য সরকার বহু আগে থেকেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলি প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেয়। তবে সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও আদালতের রিটসহ নানা জটিলতায় এ কার্যক্রম দু’দফা স্থগিত হয়ে যায়।
এবারের কর্মশালার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টেলিটকের প্রযুক্তিগত সহায়তায় ‘স্বয়ংক্রিয় বদলি পদ্ধতি’ বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার আর কোনো জটিলতা ছাড়াই বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথে এগোবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগ অবশেষে আলোর মুখ দেখবে।
Leave a Reply