বেসরকারি স্কুল ও কলেজের ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বদলিসংক্রান্ত নানা প্রস্তাব ও বাস্তবায়নপন্থা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। মূল প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—২০০৫ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলির আওতার বাইরে রাখা এবং শুধুমাত্র এনটিআরসিএ সনদধারী শিক্ষকদেরকেই এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী, মাউশির উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী, সহকারী পরিচালক এস এম মোসলেম উদ্দিনসহ টেলিটক ও এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের কর্মকর্তারা।
কর্মশালার একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এনটিআরসিএ সনদ ছাড়া নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির আওতায় আনা হলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এজন্য আপাতত কেবল এনটিআরসিএর সনদধারী শিক্ষকদেরই বদলি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এছাড়া, নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষক ও ২০০৫ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির বাইরে রাখার সুপারিশও উঠে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “কর্মশালায় একাধিক বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নীতিমালা সংশোধন করে পরিপত্র আকারে জারি করা হবে। এতে শিক্ষক বদলির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।”
এছাড়া টেলিটকের সহায়তায় একটি স্বয়ংক্রিয় বদলি সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রে টেলিটককে কী ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। সফটওয়্যার তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।
সূত্র জানায়, অতীতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থেকে গেছেন, যা পেশাগত গতিশীলতায় বাধা সৃষ্টি করেছে। এই অচলাবস্থা দূর করতে সরকার স্বয়ংক্রিয় বদলি ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়। তবে সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতা ও আদালতে দাখিল করা রিটের কারণে কার্যক্রম একাধিকবার স্থগিত হয়।
তবে এবার আশা জাগছে—কর্মশালার আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধিত নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্বয়ংক্রিয় বদলির প্রক্রিয়া বাস্তবে রূপ পাবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সব প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে অতি শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Leave a Reply