বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১০ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারির পর বিষয়টি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি নভেম্বর থেকেই শিক্ষকদের মূল বেতনের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে বাড়িভাতা কার্যকর হলো।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সরকার ধাপে ধাপে এই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম ধাপে ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাতা প্রদান করা হবে। পরবর্তী ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ১৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) হারে বাড়িভাতা কার্যকর করা হবে।
এ নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত ভাতার সুবিধাটি ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামো প্রণয়নের সময় সমন্বয় করতে হবে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ), মাদরাসা, ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, কৃষি ডিপ্লোমা ও মৎস্য ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালিত হতে হবে।
তবে এই ভাতা বৃদ্ধির ফলে কোনো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে না বলে চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িভাতা প্রদানে সকল আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ভাতার ব্যয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংগঠনগুলো বাড়িভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি পর্যালোচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি সাপেক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবশেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়। এতে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষক মহলে এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হলেও, তারা দ্রুত পূর্ণ ১৫ শতাংশ ভাতা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
চূড়ান্তভাবে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ আদেশ কার্যকর করেছে, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক স্বস্তি কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply