দেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কার্যকর নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এ বিতর্ক আরও জোরদার হয়। অনেকের মতে, তাঁর এই অবস্থান দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে রাজধানীতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় শতাধিক চাকরিজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার খবরে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উপদেষ্টা রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থাকতে পারছেন না। এমনও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ করেই সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন।
চাকরিজীবীদের দাবি, এর আগেও মহার্ঘ ভাতা কার্যকরের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ তা স্থগিত করা হয়, যা তাঁদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। সেই সময় আন্দোলনের প্রস্তুতিও শুরু হয় বিভিন্ন দপ্তরে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পে কমিশন গঠন করে, যা অনেকের মতে ছিল সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল।
পে কমিশন গঠনের পর চাকরিজীবীদের একাংশ আশা করেছিলেন, দ্রুতই নতুন স্কেল ঘোষণা হবে। কমিশনের কাজও শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। কিন্তু উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সর্বশেষ মন্তব্যে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, “পে-স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারই নেবে।”
এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে উপদেষ্টা মূলত নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে পে-স্কেল কার্যকর হলে বিএনপি নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এলে নতুন কিছু ঘোষণা করার সুযোগ হারাবে। আবার অন্যদের মতে, বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত; নির্বাচনের আগে বড় ধরনের আর্থিক দায় নিতে অনিচ্ছুক অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে মাঠপর্যায়ের চাকরিজীবীদের মধ্যে স্পষ্ট হতাশা বিরাজ করছে। তাঁদের মতে, এই ঘোষণার ফলে সরকারের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে এর রাজনৈতিক প্রতিফলন দেখা দিতে পারে। এমনও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ যে, পে-স্কেল নিয়ে আবারও আন্দোলনের আবহ তৈরি হলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদি সত্যিই এ ঘোষণার ফলে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়, তবে তা কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়—বরং নির্বাচনী স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনের আগে পে-স্কেল কার্যকর না করে উপদেষ্টা হয়তো সরকারের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছেন।
শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পেশাজীবিদের আন্দোলন যতক্ষণ বিএনপির সহানুভুতি বা সম্মতির প্রকাশ না পায় ততক্ষণ তাদের দাবীগুলো যেন অন্যয্যতায় ভরা থাকে। কিন্তু যখনই সেই আন্দোলন বিএনপির সহনুভুতির প্রকাশ পায় আশ্চর্যজনকভাবে তার কিছু সময়ের মধ্যে সেই আন্দোলনের দাবীর যথার্থতা অর্থ উপদেষ্টা বুঝতে পারেন এবং সেই আন্দোলনের দাবীগুলো মেনে নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এটি কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তা বহুমাত্রিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
Leave a Reply