বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্ধারিত সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নতুনভাবে শুরু করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তারা আগ্রহ না দেখানোয় এবার টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিটকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্মতি দিলেই দ্রুত সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করা হবে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, প্রথমে এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)-এর মাধ্যমে বদলির সফটওয়্যার তৈরির অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি আগ্রহ না দেখানোয় বিষয়টি টেলিটকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে টেলিটকের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্মতি দিলেই বদলি কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা খুব দ্রুত বদলির সফটওয়্যার তৈরি করার চেষ্টা করছি। টেলিটকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।”
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় আন্দোলনের পথে যাচ্ছে এনটিআরসিএ-সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন একত্রিত হয়ে আগামী ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ বদলি-প্রত্যাশী শিক্ষক ঐক্যজোট ব্যানারে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রভাষক মো. সরোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বদলি চালুর দাবিতে আমরা বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে বৈঠক করেছি। সবাই একত্রে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১০ নভেম্বর ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির কোনো নিয়ম নেই। আগে এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও, ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের জন্য সেই পথ বন্ধ করে দেয় সরকার। ফলে অনেক শিক্ষক নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন, বিশেষ করে নারী শিক্ষকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় এবং সেই অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সফটওয়্যারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় নতুনভাবে সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। বর্তমানে টেলিটকের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও শিক্ষকরা দ্রুত বদলি কার্যকর করার দাবিতে আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
Leave a Reply