1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
Title :
যে দুই কারণে আটকে আছে পে স্কেল যে কোন সময় মন্ত্রীসভায় রদবদল আসছে বড় ধরনের চমক এমপিও শিক্ষকগণ বদলি আবেদনের জন্য কতদিন সময় পাবেন জানাল মাউশি নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে যাদের নাম চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি

MPO শিক্ষকদের অক্টোবরের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে যাবে কোনদিন আর পাবে কোনদিন? যা জানাল মাউশি

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭০৩ Time View
MPO শিক্ষকদের অক্টোবরের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে যাবে কোনদিন আর পাবে কোনদিন?

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের বেতন বিল প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) ওই বিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদনে বিলম্ব না করলে আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অক্টোবর মাসের বেতন-ভাতা পেতে পারেন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে পরিচালিত এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ইএমআইএস সেলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ। আগামীকাল মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। যদি মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত অনুমোদন আসে, তাহলে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই হয়তো শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা চলে যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এবার সার্ভার বন্ধ থাকায় অনেক বিল প্রক্রিয়াকরণে বাধা এসেছে। কিন্তু আমরা হাতে করে বা বিকল্প ব্যবস্থায় বিল সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি যাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানে দেরি না হয়।”

ইএমআইএস সেলের সার্ভার এখনো সচল হয়নি। গত ১৪ দিন ধরে সার্ভার অচল থাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত এক ধরনের স্থবিরতায় পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার এখন সার্ভারটির বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা পরীক্ষা করছেন।

ইএমআইএস সেলের ওই কর্মকর্তা জানান, “বুয়েটের আইটি বিশেষজ্ঞ দল এখন পুরো সিস্টেমের গভীর পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হাতে থাকা রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সার্ভার পুনরায় চালু করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহে সার্ভার সচল করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সার্ভার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাজের চাপ জমে গেছে। সার্ভার চালু হওয়ার পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ডেটা আপলোড করতে হবে। ফলে তখনও হয়তো কিছু সময়ের জন্য স্লো রেসপন্স দেখা দিতে পারে।”

সার্ভার বন্ধ থাকায় দেশের হাজারো শিক্ষক-কর্মচারী এখন চরম অনিশ্চয়তায় আছেন। নতুন এমপিও আবেদন করা যাচ্ছে না, ইনডেক্স বাতিল বা সংশোধনের আবেদনও ঝুলে আছে। যেসব শিক্ষক সম্প্রতি পদোন্নতি, নাম সংশোধন বা ইনডেক্স নম্বর পরিবর্তনের কাজ করছিলেন, তাদের সব ফাইল উপজেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আটকে গেছে।

রাজধানীর এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“গত দুই সপ্তাহ ধরে আমাদের প্রধান শিক্ষক প্রতিদিন চেষ্টা করছেন আমার এমপিও আবেদন আপলোড করতে, কিন্তু সার্ভারে লগইনই করা যাচ্ছে না। এমপিও আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না। এতে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।”

আরেকজন কলেজ শিক্ষক জানান, “আমার ইনডেক্স নম্বর সংশোধনের কাজ চলছিল। এখন সেটা থেমে আছে। উপজেলা অফিস থেকে জানানো হয়েছে—সার্ভার সচল না হলে তারা কিছুই করতে পারবেন না। ফলে আমার বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াও ঝুলে গেছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইএমআইএস সেলের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমাদের সার্ভারে কিছু জটিল কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। আইটি টিম বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। সার্ভারটি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় টেস্টিং, নিরাপত্তা যাচাই এবং ডেটা ব্যাকআপ প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই, সার্ভার পুনরায় চালুর পর যেন কোনো ডেটা ক্ষতি না হয়। তাই বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল পুরো সিস্টেম অডিট করছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সার্ভার খুব শিগগিরই সচল করা হবে।”

সার্ভার বন্ধ থাকার কারণে শুধু এমপিও আবেদন নয়, বরং শিক্ষা প্রশাসনের অনেক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক বদলি, পদোন্নতি, প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত অনুমোদন, ইনডেক্স রিনিউয়ালসহ বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ থেমে গেছে। ফলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে আঞ্চলিক অফিস পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও হিমশিম খাচ্ছেন।

এক আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, “ইএমআইএস সার্ভার বন্ধ থাকায় আমরা কোনো আবেদন প্রক্রিয়া করতে পারছি না। সব তথ্যই এখন ওই সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষক-কর্মচারীদের চাপ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

সব মিলিয়ে, ইএমআইএস সেলের সার্ভার অচল থাকার প্রভাব এখন দেশের বেসরকারি শিক্ষাক্ষেত্রের সর্বত্র পড়েছে। বেতন বিল পাঠানো ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া কিছুটা অগ্রসর হলেও সার্ভার সচল না হলে এমপিও আবেদন, ইনডেক্স সংশোধন এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত কাজ স্থবির থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের আইটি বিশেষজ্ঞদের হাতে এখন আশা টিকে আছে—তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারলেই শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বস্তি ফিরিয়ে পাবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme