দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যবহার করে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরীহ শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী। তিনি রবিবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ প্রকাশ করেন।
নিজের বক্তব্যে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী লিখেছেন, “যারা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে গেছে, তাদের চুলও স্পর্শ করতে পারেননি। অথচ এখন দুদককে ব্যবহার করে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরীহ শিক্ষকদের হয়রানি করার পাঁয়তারা চলছে।”
সত্যি কথা বলতে কি তার এ অভিযোগের যে একেবারে সত্যতা নাই তা কিন্তু নয়। কারণ অভিযান যদি সত্যকে অনুসন্ধান করার জন্য হয় তাহলে আমরা সকলেই সেটিকে সাধুবাদ জানাব কিন্তু এ অভিযান যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয় তাহলে কিন্তু তা হবে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অন্যতম হুমকির। কারণ অতীতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন অডিটের নামে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে হয়রানি করা হয়, যেভাবে টাকার কন্ট্রাক্টটের খেলা করা হয় তাতে করে কঁপালে চিন্তার ভাজ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এরই মধ্যে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ছাড়াও স্কুল-কলেজসহ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও দুর্নীতির অনুসন্ধানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)।
দুদকের এ অভিযান যদি সত্যিকার অর্থে দূর্নীতি নির্মূলকরণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় কাউকে বা কোন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানির উদ্দেশ্যে না হয় তাহলে আমি ব্যাক্তিগতভাবে বা আমার মতো অনেক শিক্ষক বা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ এ অভিযানকে স্বাগত জানাবো।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “দুদক এতদিন শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও নানা অনিয়ম রয়েছে। এসব বন্ধে দুদকের মাধ্যমেই অভিযান পরিচালনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যদি অভিযানটি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে তা হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের না ধরে বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবে নিরীহ শিক্ষক-কর্মচারীরাই হয়রানির শিকার হতে পারেন। অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি—দুদকের অভিযান হলে তা হবে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক, যাতে শিক্ষা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের শেকড় উন্মোচিত হয়।
Leave a Reply