1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
Title :
যে দুই কারণে আটকে আছে পে স্কেল যে কোন সময় মন্ত্রীসভায় রদবদল আসছে বড় ধরনের চমক এমপিও শিক্ষকগণ বদলি আবেদনের জন্য কতদিন সময় পাবেন জানাল মাউশি নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে যাদের নাম চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি

আজ থেকে শুরু অক্টোবর ২০২৫ এর এর ইএফটি বিল সাবমিট

  • Update Time : শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০২৯ Time View
আজ থেকে শুরু অক্টোবর ২০২৫ এর এর ইএফটি বিল সাবমিট

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, আর সেই প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ঘামে ও মেধায়। অথচ এদের জীবনে এক অদ্ভুত নিয়মে জেঁকে বসেছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। প্রতি মাসের শুরু মানেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎকণ্ঠার সময়—এই মাসে বেতন কবে আসবে? ৫ তারিখে? ১০ তারিখে? নাকি আরও পরে?

কয়েক মাস হয়ে গেল শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেতন প্রদানে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি চালু করেছে। যার উদ্দেশ্য ছিল—বেতন প্রদানে বৈষম্য দূর করা এবং দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেনি।
ইএফটির ফলে একমাত্র যেটুকু সুবিধা পাওয়া গেছে তা হলো—এখন আর স্কুল কমিটির সভাপতি বা ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষরের জন্য দৌড়াতে হয় না, বেতনের পোস্টিংও হয় সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে। আগে যেখানে লোকাল ব্যাংকে “এমপিও এসেছে কিন্তু টাকা আসে নাই” বা “টাকা এসেছে কিন্তু এমপিও আসেনি”—এই দ্বৈত সমস্যায় শিক্ষকরা ভুগতেন, এখন সেই দিকটি কিছুটা সহজ হয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা, অর্থাৎ সময়ে বেতন না পাওয়া, এখনো থেকে গেছে আগের মতোই জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছিল, প্রতি মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে বেতন বিল সাবমিট করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শুধুমাত্র প্রথম মাসেই ২৩ তারিখে বিল সাবমিট করা সম্ভব হয়েছিল; এরপর থেকে নিয়মিতভাবে বিল সাবমিট হয় ২৪, ২৫ বা ২৬ তারিখে—কখনো কখনো আরও দেরিতে।

চলতি মাসেও একই চিত্র। গত বুধবার মাউশির ইএমআইএসসেলে যোগাযোগ করলে ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার হুমায়ন কবির জানিয়েছেন যে, এই মাসেও ২৩ তারিখে বিল সাবমিট করা সম্ভব হচ্ছে না। সাবমিট করা হবে ২৫ ও ২৬ তারিখে। ২৪ তারিখ পর্যন্তও ইএমআইএস সাইটে কোনো লগইন করা যায়নি—যা চরম একটি অবস্থাপনার অন্যতম স্বাক্ষী বহন করে। যেটি কিনা এমপিভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।

একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সিস্টেম থাকার পরও যখন শিক্ষকরা প্রতিমাসে অনিশ্চয়তায় দিন কাটান, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই প্রযুক্তি কাদের সুবিধা দিচ্ছে? শিক্ষক-কর্মচারী না দপ্তরের কর্মকর্তাদের?

বেতনপ্রাপ্তিতে দেরি মানে শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, এটি একেকজন শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
মাসের শুরুতে বাড়িভাড়া, স্কুল ফি, বাজার খরচ, ঔষধ কেনা—সবকিছুতেই নির্ভর করতে হয় মাসিক বেতনের ওপর। যখন সেই বেতন ১০ তারিখের আগে আসে না, তখন শিক্ষক পরিবারগুলো পড়ে যায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। অনেককে ধারকর্জ করে সংসার চালাতে হয়, কেউ কেউ আবার ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন।

একজন শিক্ষক যখন মানসিকভাবে অস্থির, তখন তাঁর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই এই বিলম্ব কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়—এটি শিক্ষার মানের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্রশ্ন আসে—প্রতিমাসে একই অজুহাতে কেন দেরি হয়? ইএফটির যুগে, স্বয়ংক্রিয় বিল সাবমিট সিস্টেম চালু থাকার পরও কেন প্রতি মাসে এইভাবে বেতন প্রদানে বিলম্ব?
অনেকে মনে করেন, মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, বিল প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত হিপোক্রেসি এবং কিছু কর্মকর্তার অবহেলা বা দায়সারাভাব এর জন্যই এই সমস্যার অবসান ঘটছে না।

এছাড়া অনেক সময় সফটওয়্যার সার্ভার ডাউন, লিংক সমস্যা বা প্রোগ্রামারদের বিলম্বিত প্রস্তুতিও অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়—যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একমাত্র চাওয়া—সময়ে বেতন। তাঁরা বিলাসিতা চান না, বিশেষ সুযোগও চান না—শুধু চান সম্মানজনকভাবে সময়মতো পারিশ্রমিক।
তাদের আকুতি আজ একটাই—

“আমাদের এই বেতন প্রদানের ছলচাতুরী আর অনিশ্চয়তা কি কোনোদিন শেষ হবে না? আমরা কি সারাজীবন এই অপেক্ষার প্রহর গুনে যাব?”

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা এই বিষয়ে যে সমাধানগুলো চান তাহলো-

১. নির্দিষ্ট সময়সীমা আইনি বাধ্যবাধকতা করা: প্রতিমাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন প্রদানের বাধ্যবাধকতা সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করতে হবে।
২. ইএফটি প্রক্রিয়ার স্বাধীন মনিটরিং: তৃতীয় পক্ষ বা নিরপেক্ষ অডিট টিমের মাধ্যমে প্রতিমাসের বিল সাবমিশন ও পেমেন্ট স্ট্যাটাস যাচাই করা উচিত।
৩. ইএমআইএস সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার: সার্ভার ডাউন বা লগইন সমস্যা জাতীয় ত্রুটি দূর করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দলকে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে।
৪. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: দেরি ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ইউনিটের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৫. শিক্ষক কল্যাণ তহবিল সক্রিয় করা: বেতন বিলম্বজনিত আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার চালিকাশক্তি। অথচ তাদের প্রতি প্রশাসনিক আচরণ দিন দিন যেন উপেক্ষার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। সময় এসেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি এই বাস্তব সমস্যার গভীরতা বুঝে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কারণ শিক্ষক যদি বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তায় না থাকেন, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme