দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নে জোর প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য ইনপুটের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার এখন পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং আগের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে তথ্য আপলোড করা সম্ভব হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সফলভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমতি সাপেক্ষে চলতি জুলাই মাসেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, শুরুতে সার্ভার জটিলতা এবং পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাবে তথ্য ইনপুটের কাজ ব্যাহত হলেও বর্তমানে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। সফটওয়্যার এখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত তথ্য আপলোড করতে পারছে। ইতোমধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সফলভাবে জমা দিয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং কারিগরি প্রস্তুতির কাজ শেষ হলেই বদলির আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বর্তমানে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হলে জুলাই মাসেই শিক্ষক বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করা যাবে।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন করে তথ্য ইনপুটের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২৫ জুন পর্যন্ত বদলি সফটওয়্যারে শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দেন।
শুধু তথ্য ইনপুটের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী ধাপে যাচাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্যও পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়। সেই নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যারে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হার্ডকপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ২৮ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাহক মারফত সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালকের দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাঠাতে বলা নথির মধ্যে ছিল বদলি সফটওয়্যার থেকে প্রিন্ট করা তথ্যের রিপোর্ট, সর্বশেষ এমপিও শিট এবং প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সত্যায়িত টিচার-স্টাফ প্যাটার্ন অগ্রায়ণপত্র। এসব কাগজপত্রে সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও তারিখ উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ২৫ জুন পর্যন্ত সফটওয়্যারে তথ্য ইনপুট দেওয়া যাবে। এরপর আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ওই তথ্য যাচাইয়ের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ৫ জুলাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের কাজ শেষ হওয়ার পরই বদলির আবেদন গ্রহণের জন্য সফটওয়্যার উন্মুক্ত করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। এই কার্যক্রম চালু হলে নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীরা অনলাইনের মাধ্যমে বদলির আবেদন করতে পারবেন এবং স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায় বদলি সম্পন্ন হবে বলে শিক্ষা প্রশাসনের আশা।
Leave a Reply