মিশরের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর ড্রেসিংরুমে উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের একটি গান গাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ—যা আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত—সংক্রান্ত একটি লাইন থাকা সেই গানকে ঘিরে ফিফার নিয়ম লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠলেও, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দলটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়রা জনপ্রিয় সমর্থক-সংগীত ‘মুচাচোস’ (Muchachos) গাইছেন। গানটির একটি অংশে ‘মালভিনাসের জন্য’ (for the Malvinas) বাক্যটি উচ্চারণ করা হয়, যা আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা ‘মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে এবং দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই সংঘাতে মোট ৯০৭ জন প্রাণ হারান, যা এখনো দুই দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
ফিফার প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত বিধিমালায় স্টেডিয়াম বা টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ভেন্যুর ভেতরে রাজনৈতিক বার্তা, স্লোগান, ব্যানার কিংবা রাজনৈতিক তাৎপর্য বহনকারী গান প্রদর্শন বা পরিবেশন নিষিদ্ধ। এই কারণে ড্রেসিংরুমে গাওয়া ওই গানের বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু মহলে প্রশ্ন ওঠে যে, এটি ফিফার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না।
সম্প্রতি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ফিফা যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তার একটি উদাহরণও সামনে এসেছে। লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনায় ইংল্যান্ডের ফুটবলার জারেল কোয়ানসাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার ঘটনাটিও একইভাবে তদন্ত বা শাস্তির মুখে পড়তে পারে কি না—এমন জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল স্পোর্ট ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইলে সংস্থাটি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই ফিফার।
বর্তমান টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে উভয় দল জয় পেলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ফকল্যান্ড বা মালভিনাস ইস্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনার আবহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে একই সংবাদমাধ্যম জানায়, ফকল্যান্ড যুদ্ধের নিহতদের স্মরণে তৈরি করা এক সৈনিকের সিলুয়েট-সংবলিত একটি পতাকা বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাননি ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা। ফিফার বিধিনিষেধের কারণে সেই পতাকাটি প্রবেশের অনুমোদন পায়নি।
শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডের ১২ জন সমর্থকের একটি দলকেও সেন্ট জর্জ ক্রস প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণ ওই পতাকায় একটি সাবমেরিনের প্রতীক ছিল। সংশ্লিষ্ট সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য পরিচিত তাদের শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হিসেবেই সাবমেরিনের ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবুও ফিফার নিয়মের কারণে সেটি স্টেডিয়ামে প্রদর্শনের অনুমতি মেলেনি।
Leave a Reply