বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি জানিয়েছেন, বদলির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী আগস্ট মাসের প্রথমার্ধের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মাউশি ডিজি বলেন, বর্তমানে বদলির জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের শেষ ধাপের কার্যক্রম চলছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সব তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর বদলি আবেদন গ্রহণের অনুমতি চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি জুলাই মাস থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। আবেদন গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে সব যোগ্য শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেন।
অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর নীতিমালা অনুযায়ী বদলির আদেশ জারি করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলে আগামী আগস্ট মাসের প্রথমার্ধেই অনেক শিক্ষক নিজ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ পাবেন।
এর আগে গত ২১ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বদলির জন্য তথ্য ও ডেটা সংগ্রহের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় একটি অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সফটওয়্যারের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে একপর্যায়ে সার্ভার হঠাৎ বন্ধ (শাটডাউন) হয়ে যায়। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডেটা ইনপুট দিতে পারেনি। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় সফটওয়্যারের ত্রুটি দূর করা হলে পুনরায় তথ্য ইনপুটের সুযোগ দেওয়া হয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সার্ভার সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিতে পারেনি, তাদের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে পুনরায় তথ্য ইনপুটের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ২৫ জুন ২০২৬। এরপর উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের সময়সীমা রাখা হয় ৫ জুলাই পর্যন্ত। সবশেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য চূড়ান্ত যাচাই ও অনুমোদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ জুলাই।
একইভাবে কলেজ পর্যায়েও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, যাচাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময় ২৫ জুন নির্ধারণ করা হয়। এরপর আঞ্চলিক উপ-পরিচালকদের (কলেজ) জন্য ৫ জুলাই পর্যন্ত এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সব তথ্য যাচাই শেষে বদলির আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ের সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরই বদলি আবেদন গ্রহণের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অনলাইন আবেদন গ্রহণ, আবেদন যাচাই এবং নীতিমালা অনুযায়ী বদলির আদেশ জারির মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
Leave a Reply