বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন-ভাতা নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিশোধের লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহেই যাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন-ভাতার অর্থ হাতে পান, সে লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সময়মতো প্রস্তাব পাঠানো গেলে পরবর্তী যাচাই-বাছাই ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে মাউশি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) একান্ত আলাপচারিতায় এসব তথ্য জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
তিনি বলেন, সম্প্রতি জুন মাসের বেতন-ভাতা স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও জুলাই মাসের বেতন দ্রুত ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বিলম্ব না ঘটে।
মাউশি ডিজি আরও বলেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেতন ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট মাসের ৬ তারিখের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন-ভাতার অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন ছাড়ের প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অনলাইনের মাধ্যমে মাসিক বিল দাখিল করেন। এরপর অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিলের তথ্য যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বেতন-ভাতার অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারি অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো বিল দাখিল করলে পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এজন্য সব প্রতিষ্ঠানকে সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিল জমা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার কয়েক বছর আগে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজপত্রের জটিলতা অনেকটাই কমেছে, বিল প্রক্রিয়াকরণের সময় হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন ধাপে অনলাইন পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক হয়েছে।
Leave a Reply