1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
Title :
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

নতুন বেতন কাঠমোতে পরিবর্তন হবে বাৎসরিক বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ভাতা প্রদানের নিয়মে

  • Update Time : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮১ Time View
বাৎসরিক বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ভাতা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১ জুলাই থেকে শুরু হলেও এখনো এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষা দুটোই বাড়ছে। এরই মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রাথমিক খসড়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। এসব তথ্য অনুযায়ী, এবার বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। বর্তমানের মতো সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে গ্রেডভেদে ভিন্ন ভিন্ন হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ধরনের ভাতা এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতেও একাধিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের কার্যক্রম আরও পিছিয়ে যেতে পারে। ঠিক কতদিন বিলম্ব হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ধারণা, গেজেট জারি হতে আরও দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে ১ জুলাই থেকে কার্যকারিতা শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এদিকে প্রাথমিক খসড়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের যে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডের জন্য ইনক্রিমেন্টের হার ৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডের ক্ষেত্রে এ হার রাখা হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় গ্রেডের জন্য প্রস্তাবিত ইনক্রিমেন্ট ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে। ফলে নতুন ব্যবস্থায় উচ্চ গ্রেড ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে ইনক্রিমেন্টের হারেও পার্থক্য তৈরি হবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, নতুন ইনক্রিমেন্ট কাঠামো নির্ধারণের আগে সরকার একটি বৃহৎ পরিসরের জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ জন সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মতামত নেওয়া হয়। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থাকে বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা উচিত। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন যে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল বেতনের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই জরিপে আরও দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হওয়া উচিত, যাতে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করতে পারেন।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সরকার সেটি কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা কমিশনের সুপারিশে ২ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কয়েকটি ভাতার হার কিছুটা কম রাখা হচ্ছে। তবে বর্তমানে যে হারে বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হয়, তার তুলনায় নতুন হার বেশি থাকবে। তিনি আরও জানান, সব ধরনের ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করা হবে না। ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতনের শতভাগ পরিশোধ করা হবে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধাপে ধাপে চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হবে।

সরকারের পরিচালিত জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যোগ করলে তার মোট মাসিক বেতন-ভাতা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে যদি ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হয়ে তার মোট মাসিক বেতন-ভাতা বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হবে।

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে শুরু করে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে সমতা ও যৌক্তিকতা বজায় রাখার জন্য উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কারণ বর্তমানে যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা এবং ঝুঁকিভাতাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাতা শুধুমাত্র ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরাই পেয়ে থাকেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক এক ভিডিও বার্তায় সরকারের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নবম জাতীয় পে-স্কেলে প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা মূল বেতন যেন কোনো ধরনের কিস্তি বা ধাপে ধাপে না দিয়ে এককালীন পরিশোধ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পেরে বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। অনেকেই সংসারের প্রয়োজন মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১১ বছর পার হয়ে যাওয়ার পর দুটি পে-স্কেল পাওয়ার সময় অতিক্রম হয়েছে। এখন সেই দুটি পে-স্কেলের সমন্বয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল।

আব্দুল মালেক আরও বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন কমিশনের এ প্রস্তাবকে সম্মান জানিয়েছে এবং ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, তাদের সংগঠনটি দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারের স্বার্থ বিবেচনায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের প্রতি তাদের প্রধান দাবি হলো—১১ বছর পর যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, সেখানে প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা মূল বেতন যেন একবারেই সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়।

তার ভাষ্য, যদি মূল বেতন ধাপে ধাপে বা কিস্তিতে দেওয়া হয়, তাহলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এককালীনভাবে নতুন মূল বেতন কার্যকর করে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারের দুঃখ-দুর্দশা, আর্থিক সংকট, অভাব-অভিযোগ এবং ন্যায্য মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার কার্যকর ও ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme