বেসরকারি কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জুন-২০২৬ মাসের বেতন পেতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বেতনের অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুন মাসের বেতন-ভাতার অফিস আদেশ চিফ অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল (সিএজি) অফিসে পাঠানো হয়। এরপর সিএজি অফিস প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান বণ্টনকারী ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ব্যাংকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের অর্থ জমা হতে শুরু করেছে।
জুন মাসের বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কয়েকজন কলেজ শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদের মোবাইল ফোনে বেতন জমা হওয়ার বার্তা (এসএমএস) এসেছে। একজন শিক্ষক বলেন, “কিছুক্ষণ আগে বেতনের মেসেজ পেয়েছি। আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জনতা ব্যাংকে। তবে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী আজই বেতনের মেসেজ নাও পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।” এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকেও একই ধরনের তথ্য জানা গেছে।
এর আগে সোমবার সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার মো. জহির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, “স্কুল-কলেজের জুন-২০২৬ মাসের এমপিওর আদেশ সিএজি অফিসে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার অথবা আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতনের অর্থ জমা হতে পারে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে অনলাইনে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধান বিল দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত, দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার ফলে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়াও এখন অনেক বেশি সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।
Leave a Reply