বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবম শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম একসঙ্গে সমান্তরালভাবে পরিচালিত হবে, নাকি একটি শেষ হওয়ার পর অপরটি শুরু করা হবে—সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (৫ জুলাই) এনটিআরসিএর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ঝুলে রয়েছে। এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। একই সময়ে দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ফলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনটি আগে শুরু করা হবে, নাকি উভয় কার্যক্রম একই সময়ে সমান্তরালভাবে পরিচালিত হবে—সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এনটিআরসিএর বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এই স্থবিরতা দূর করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নবম শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ভাইভাও সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তবে প্রশাসনিকভাবে দুটি কার্যক্রম একইসঙ্গে পরিচালনা করা হবে, নাকি একটি শেষ করে অন্যটি শুরু করা হবে—এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত ও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে, এনটিআরসিএ সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষকদের নিয়োগের জন্য নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৬৯ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর আরেক কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহের শেষ দিকে নবম শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া মাত্রই কোনো ধরনের বিলম্ব না করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
শূন্য পদের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, অধিদপ্তরভিত্তিক কতটি পদ রয়েছে, সেই বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অধিদপ্তর থেকে ৭৭ হাজারেরও বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরে এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই ও পুনর্মূল্যায়নের পর মোট ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্য পদের তথ্য সঠিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্য পদের মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য ৬ হাজার পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে নবম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবশিষ্ট ৬৯ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply