1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
Title :
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

জুলাইয়ে জারি হচ্ছে না পে স্কেলের গেজেট

  • Update Time : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৮১ Time View
পে স্কেল আপডেট (1)

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থাকলেও এ সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আর্থিক হিসাব-নিকাশ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট জারি করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে সরকার চায় এমন একটি কাঠামো বাস্তবায়ন করতে, যা দেশের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বর্তমানে চালু থাকা ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এ কারণেই গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও চাকরিজীবীদের জন্য একটি স্বস্তির খবর হচ্ছে—নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই থেকেই গণ্য করা হতে পারে। ফলে গেজেট পরে প্রকাশিত হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া পাওনাও একসঙ্গে পেয়ে যাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে কত শতাংশ বেতন বাড়বে, কোন ধাপে তা কার্যকর হবে, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ অপেক্ষা করছেন গেজেট প্রকাশের জন্য। বিশেষ করে যারা অবসরের কাছাকাছি সময়ে রয়েছেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। এরপর থেকেই চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেজেট প্রকাশে দেরির অন্যতম প্রধান কারণ হলো বর্তমানে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার জটিলতা। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ হিসাব-নিকাশ ও পে-ফিক্সেশনের কাজ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এখন সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করতে হলে সফটওয়্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন মডিউল সংযোজনের প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, বর্তমানে সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ সফটওয়্যারনির্ভর হওয়ায় আগের মতো হাতে হিসাব করে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি দুই বা তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়বে না, বরং সফটওয়্যার পরিবর্তন, তথ্য হালনাগাদ এবং হিসাব সংক্রান্ত ভুল হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হলে পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড এবং অবসরজনিত আর্থিক সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে বেতনের ভিত্তি পরিবর্তিত হবে, যা সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ তাদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ছুটির নগদায়ন এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা মূলত শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। যদি নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করা হয়, তাহলে অবসরের সময় কোন বেতনকে ভিত্তি ধরা হবে—তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরবর্তীতে এসব সুবিধা বারবার সমন্বয় করাও সহজ নয়। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, তারা প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বা দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আব্দুল মালেক একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে একবারে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য ভাতাগুলো ধাপে ধাপে সমন্বয় করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কম হবে, প্রশাসনিক জটিলতাও হ্রাস পাবে এবং অবসরপ্রাপ্ত বা অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে না।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। কমিটি বর্তমানে নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পরই গেজেট প্রকাশ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও সম্প্রতি জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একদিকে চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়তা করা, অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্যও বজায় রাখা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পাশাপাশি সরকারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বেতন বৃদ্ধি তখনই প্রকৃত সুফল বয়ে আনবে, যখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাস্তব অর্থে বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme