1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
Title :
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দিন দিন উৎকন্ঠা বাড়ছে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের

  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৮ Time View
পে স্কেল উৎকন্ঠা

সরকার নতুন পে-স্কেল বা নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও এখনো গেজেট প্রকাশ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আদেশ জারি এবং সফটওয়্যারভিত্তিক বেতন নির্ধারণ ও হিসাব সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্ধিত বেতন-ভাতা হাতে পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো আংশিক অথবা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করলেও এখন পর্যন্ত নবম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে বাজেট বরাদ্দ থাকলেও কবে থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। তবে সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় গেজেট বা সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনো জারি না হওয়ায় বর্ধিত বেতন কার্যকর হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে লাখো সরকারি কর্মচারী এখনো অপেক্ষা করছেন সরকার কবে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।

শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নয়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সম্পৃক্ত রয়েছে। বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিও সরকারের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য, বিভ্রান্তি বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজস্ব সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সরকারি ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেই রূপরেখার ভিত্তিতেই বর্তমানে চূড়ান্ত গেজেট প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

সরকারি সূত্র বলছে, সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে দেখছে নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এক ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, নাকি দুই বা ততোধিক ধাপে কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বাজারে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ভার এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গেজেট প্রকাশ, আইনি যাচাই-বাছাই, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে। ফলে বাস্তবায়নে সামান্য বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি কিংবা মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যদি কোনো কারণে গেজেট প্রকাশে আরও কিছুটা সময় লেগেও যায়, সেক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা বকেয়াসহ পরিশোধ করার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। অর্থাৎ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে প্রাপ্য বর্ধিত অর্থ পরবর্তীতে একসঙ্গে পরিশোধের সুযোগ রাখা হতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এই সময়ের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি বছর নিয়মিত ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এই দীর্ঘ অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে। দীর্ঘ পর্যালোচনা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণের পর কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের সংস্কার আনার প্রস্তাবও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় আরও উপযুক্ত আর্থিক সুবিধা পান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme