প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইশতাহারে বলা হয়েছে যে, যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে।’
তবে নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। সরাসরি তারিখ না জানিয়ে তিনি শুধু বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নটা করা হবে।’
যদিও এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেট বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার নতুন বেতন কাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও নিশ্চিত করেন যে, নতুন পে-স্কেলের সব সুবিধা একযোগে কার্যকর করা হবে না। অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে একাধিক ধাপে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকটা ধাপে এটা করবো, প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে।’
তবে নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন কত নির্ধারণ করা হতে পারে, সে বিষয়ে এখনই কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও সরকারের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, নতুন পে-স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত করতে সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, রাজস্ব পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘এই পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার আলোকেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।’
অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসের মাঝামাঝি অথবা মাসের শেষ দিকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন এবং বেতন বৃদ্ধির গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত জানতে এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।
Leave a Reply