২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছে ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করলেও দলটির দুই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা ও কাসেমিরোর চোট এখন কোচিং স্টাফের চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুই ফুটবলারকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে জয় পেলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই ব্রাজিল শিবির। কারণ, ম্যাচ চলাকালীন চোটে পড়েছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা ও কাসেমিরো। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং দলের মেডিকেল টিম। চোটের প্রকৃতি ও মাত্রা যাচাই করার পরই তাদের পরবর্তী ম্যাচে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছেন লুকাস পাকেতা। ম্যাচের একেবারে প্রথম মিনিটেই তিনি পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন। এরপরও দলের স্বার্থে খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এই মিডফিল্ডার। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে একই জায়গায় আবারও তীব্র ব্যথা অনুভব করলে আর মাঠে থাকা সম্ভব হয়নি তার। বিরতির সময় সতীর্থদের সহায়তায় মাঠ ত্যাগ করেন পাকেতা। মাঠ ছাড়ার সময় তাকে চোখের জল ফেলতেও দেখা যায়, যা তার চোটের গুরুত্ব নিয়ে আরও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) পাকেতার চোট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে তার ক্লাব ফ্লামেঙ্গো জানিয়েছে, পাকেতা পেশির চোটে আক্রান্ত হয়েছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ করে মাঠে ফেরানোর লক্ষ্যে নিবিড় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে।
অন্যদিকে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কাসেমিরো। ম্যাচে দলের সমতাসূচক গোলটি আসে তার পা থেকেই। তবে ম্যাচের শেষ দিকে তিনিও ব্যথা অনুভব করেন এবং শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। যদিও তার চোট নিয়ে ব্রাজিল শিবির তুলনামূলক আশাবাদী। দলের ধারণা, এটি গুরুতর কোনো সমস্যা নয়; বরং মাংসপেশিতে শক্ত ধরনের টান লাগার কারণেই তিনি অস্বস্তি অনুভব করেছেন।
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দুই ফুটবলারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আমরা দেখব পাকেতা এবং কাসেমিরোর অবস্থা কেমন। এটি খুব কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। জাপান সহজ কোনো দল নয়। তারা খুবই সংগঠিত এবং দারুণ গতিময় একটি দল।’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয়ী দলই জায়গা করে নেবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম এখন লুকাস পাকেতা ও কাসেমিরোর চোট। তাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারা বা না পারার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের পরিকল্পনা ও একাদশ।
Leave a Reply