1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
Title :
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

নতুন পে-স্কেলের আগে পুরোনো স্কেলে ইনক্রিমেন্ট, বঞ্চনার অভিযোগ

  • Update Time : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭ Time View
ইনক্রিমেন্ট বঞ্চনা

নতুন জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আগেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পুরোনো পে-স্কেল অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) গ্রহণের অপশন চালু করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক। তার অভিযোগ, নতুন পে-স্কেলের সুবিধা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ইতিহাস, বর্তমান পদ্ধতি এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে পুরোনো স্কেলে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার ফলে কর্মচারীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।

আব্দুল মালেক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও অতীতে এই ব্যবস্থা বর্তমানের মতো ছিল না। তিনি জানান, আগে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে তারিখে চাকরিতে যোগদান করতেন, সেই যোগদানের তারিখের এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই তিনি ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার অধিকারী হতেন। অর্থাৎ, কেউ যদি ১ জানুয়ারি চাকরিতে যোগ দিতেন, তাহলে পরবর্তী বছরের ১ জানুয়ারিতে তার প্রথম ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হতো। আবার কেউ যদি ১০ ফেব্রুয়ারি যোগদান করতেন, তাহলে পরের বছরের ১০ ফেব্রুয়ারিতেই তার ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হতো। অর্থাৎ প্রত্যেকের ইনক্রিমেন্টের তারিখ ছিল ব্যক্তিগত যোগদানের তারিখের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালের পর সরকার অনলাইন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থা ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) চালু করার পর এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। হিসাব-নিকাশ সহজ করা এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখে একযোগে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন সমন্বয়ের সুবিধার্থে তখন থেকে সবার বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইবাস প্লাস প্লাস সিস্টেমের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট একটি অপশনের মাধ্যমে একই সময়ে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট কার্যকর করা যায় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমে।

তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করেন আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, নতুন জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট এখনো প্রকাশ না হওয়ায় ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্য হয়ে পুরোনো পে-স্কেল অনুযায়ী গ্রহণ করতে হচ্ছে। অথচ নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর যদি নতুন বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হতো, তাহলে সাধারণ কর্মচারীরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পেতেন।

এ বিষয়ে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে যদি কোনো কর্মচারীর মূল বেতন পুরোনো স্কেলে ৮ হাজার ২৫০ টাকা হয়, তাহলে তার ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট হবে মাত্র ৪০০ টাকার কিছু বেশি। কিন্তু নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর একই কর্মচারীর বেতন যদি পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়, তাহলে সেই ২০ হাজার টাকার ওপর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার টাকা। অর্থাৎ নতুন স্কেলের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হলে একজন কর্মচারী আগের তুলনায় অনেক বেশি বেতন বৃদ্ধি পেতেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আগেই পুরোনো স্কেলে ইনক্রিমেন্ট গ্রহণের অপশন চালু করে কার্যত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। তার দাবি, যদি গেজেট প্রকাশের পর নতুন স্কেলের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট হিসাব করা হতো, তাহলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেত এবং দীর্ঘমেয়াদেও তারা এর সুফল ভোগ করতেন।

গেজেট প্রকাশের আগেই ইনক্রিমেন্ট অপশন চালুর পেছনে সরকারের আর্থিক বিবেচনা কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির এই আহ্বায়ক। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেলের ওপর ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট দিলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হতো। সেই ব্যয় এড়ানোর উদ্দেশ্যেই সরকার হয়তো আগে থেকেই পুরোনো স্কেলে ইনক্রিমেন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে। তার ভাষায়, ‘সরকারের অর্থটা নতুন স্কেলে দিলে বেশি লাগত। সেই কারণেই হয়তো এই ইনক্রিমেন্টটা পুরোনো স্কেলে দেওয়ার জন্য আগে থেকেই অপশন চালু করে দেওয়া হয়েছে। আগে অপশন করে দেওয়া হয়েছে যাতে আমরা কর্মচারীরা ঠকি। অর্থাৎ কর্মচারীদের যতভাবে ঠকানো যায়, বঞ্চিত করা যায়—এই অপশনটা ঠিক সেই ধরনের একটি ব্যবস্থা।’

আব্দুল মালেকের দাবি, নতুন জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর যদি নতুন বেতন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট গণনা করা হতো, তাহলে দেশের সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকৃত অর্থেই আর্থিকভাবে লাভবান হতেন। কিন্তু গেজেট জারির আগেই পুরোনো স্কেলে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর করার ফলে তারা সেই সম্ভাব্য অতিরিক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme