জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে বিভিন্ন খাতে শুল্ক, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের বাজারে বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে যেসব পণ্যের মূল্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা স্টেন্ট, চোখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্পেশাল এসিস্টিভ ডিভাইস, ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধ, সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান (এপিআই), জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস খাতেও বেশ কিছু পণ্যের দাম কমার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রিন্টার, কম্পিউটার মনিটর, বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার এক্সেসরিজ, এসএসডি (SSD) এবং পয়েন্ট অব সেলস (POS) মেশিন। এছাড়া শিশুখাদ্য, সব ধরনের মসলা, সকল প্রকার খেজুর, কৃষিখাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সার, ভেটেরিনারি মেডিসিন, কীটনাশক ও বালাইনাশক, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খামারের খাদ্যও মূল্যহ্রাসের আওতায় আসতে পারে।
সবুজ জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বেশ কয়েকটি পণ্যে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি, ২০০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন ইলেকট্রিক গাড়ি, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক, ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বা বাইক, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন। একই সঙ্গে সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS), সোলার প্যানেল মাউন্টিং স্ট্রাকচার, স্মার্টকার্ড ও ব্যাংক কার্ড, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত মর্চুয়ারি এবং সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিক্সের দামও কমতে পারে।
বাজেটে সাংস্কৃতিক ও ভোক্তা পণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্যহ্রাসের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন ধরনের মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং এসব ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস, জুয়েলারি সামগ্রী এবং সিম কার্ডও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে।
গৃহস্থালি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষেত্রেও কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ওয়াটার হিটার এবং গিজার। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিন, এটিএম মেশিন এবং সিসি ক্যামেরার দামও কমতে পারে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অর্থ বিলে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।
Leave a Reply