জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট, তামাকজাতীয় পণ্য, বিদেশি কাজুবাদাম, আমদানিকৃত মধুসহ বিভিন্ন ভোগ্য ও শিল্পপণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনে এটি প্রথম জাতীয় বাজেট। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’। সরকারের দাবি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর আমদানি ও উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তার মধ্যে রয়েছে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ এবং ভেপের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দেশে প্রস্তুতকৃত বিলাতি মদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার ফলে এসব পণ্যের বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে।
যানবাহন খাতেও কর বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি পর্যন্ত আইসি (ইন্টারনাল কম্বাশন) ইঞ্জিনবিশিষ্ট ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে এ শ্রেণির গাড়ির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গৃহস্থালি ও বৈদ্যুতিক পণ্যের মধ্যে আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ১ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার এবং ১২০০ ওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটরের ওপরও কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারমূল্যও বাড়তে পারে।
শিল্পখাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল ও উপকরণের মধ্যেও কর বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে কপার টিউব, আমদানিকৃত কোল্ড রোলড ও কোটেড কয়েল এবং শিট, এম.এস. প্রোডাক্টসহ বেশ কয়েকটি শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আমদানিকৃত মধু, আমদানিকৃত কফি এবং বিদেশ থেকে আনা কাজুবাদামের ওপরও কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।
এছাড়া শিশুদের খেলনা, টাইলস, টয়লেট ও বেসিন, শার্টিং, প্যান্টিং ও স্যুটিং ফ্যাব্রিক্সসহ বিভিন্ন আমদানিকৃত ভোগ্য ও নির্মাণসামগ্রীর ওপরও কর ও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নির্মাণ খাত ও গৃহসজ্জাসামগ্রীর বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আরও বলা হয়েছে, আমদানিকৃত পাথরের চিপস, সব ধরনের লাইটার এবং লাইটারের যন্ত্রাংশের ওপরও কর বৃদ্ধি করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার একদিকে রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে চায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুমোদিত ও কার্যকর হলে উল্লিখিত পণ্যগুলোর বাজারমূল্যে সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। ফলে ভোক্তা, ব্যবসায়ী এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যয় কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
Leave a Reply