পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্টে জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে Bangladesh national cricket team। একইসঙ্গে দেশের মাটিতে Pakistan national cricket team–এর বিপক্ষে এটিই টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাওয়া এই ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বহুদিন।
পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ২৬৮ রান। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায়। ফলে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক তরুণ গতিতারকা Nahid Rana। দুর্দান্ত গতি, আগ্রাসী বাউন্স ও নিখুঁত লাইন-লেংথে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং উপহার দেন এই তরুণ পেসার। একইসঙ্গে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার।
মঙ্গলবার (১২ মে) চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন Taskin Ahmed। তার করা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে মাত্র ২ রান করে উইকেটের পেছনে Litton Das–এর হাতে ক্যাচ দেন ইমাম-উল-হক।
এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে আরও চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইসকে বোল্ড করে ফেরান Mehidy Hasan Miraz। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৫ রান করেই বিদায় নেন।
পাকিস্তান অধিনায়ক Shan Masoodও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নাহিদ রানার গতিময় ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় লিটনের গ্লাভসে। মাত্র ২ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান তিনি।
তবে চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। দুজন মিলে ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই জুটিও ভেঙে দেন Taijul Islam। দারুণ এক এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে তিনি ফেরান সেট ব্যাটার ফজলকে। ১১৩ বল মোকাবিলা করে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন তিনি।
ফজলের বিদায়ের পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তিনি ফিরিয়ে দেন সালমান আগাকে। পাকিস্তানের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ৩৯ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন।
এরপর ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল দলকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আবারও দলের ত্রাতা হয়ে হাজির হন নাহিদ রানা। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করা তার গতিময় বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ব্যাটের কোনায় বল লাগান সৌধ শাকিল। সুযোগটি লুফে নিতে ভুল করেননি লিটন দাস।
পরের ওভারেই আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেন নাহিদ। ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির ভয়ঙ্কর ইন-সুইঙ্গারে লাইন মিস করে বোল্ড হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার এই ডেলিভারিটি ম্যাচের অন্যতম সেরা বল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এরপর পাকিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটারদেরও দাঁড়াতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। তাইজুল ইসলামের আর্ম বল বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন হাসান আলী। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
পাকিস্তানের শেষ দুটি উইকেটও নিজের ঝুলিতে ভরেন নাহিদ রানা। নোমান আলিকে বোকা বানিয়ে ফেরানোর পর শাহিন শাহ আফ্রিদির উইকেটও তুলে নেন তিনি। শাহিনকে আউট করেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই তরুণ পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক Najmul Hossain Shanto ৫৮ এবং Mushfiqur Rahim ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নেমে শান্ত ৮৭ রান করে আউট হন। এছাড়া মুশফিকুর রহিম করেন ২২ রান, লিটন দাস ১১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩ এবং তাসকিন আহমেদ ১১ রান করেন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন Ebadot Hossain।
এর আগে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের হয়ে Mahmudul Hasan Joy ৫, Shadman Islam ১০ এবং Mominul Haque ৫৬ রান করেছিলেন।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৪১৩ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াকু ব্যাটিং ও শেষ দিনে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঐতিহাসিক এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
Leave a Reply