এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অবশেষে অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে বেতন-ভাতার অর্থ ছাড় করা হবে। এতে দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী উপকৃত হবেন। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে রয়েছেন ৩ লাখ ৭৩৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন ৮৭ হাজার ৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
রোববার (১০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ায় এখন অর্থ ছাড়ে আর বড় কোনো জটিলতা নেই। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এপ্রিল মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এপ্রিলের বেতনের বিষয়ে আজ মাউশির ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, যে আমাদের তো এই বিষয়ে কোন গাফিলতি নাই আমারা তো প্রায় ১৫দিন পূর্বে শিক্ষক কর্মচারীদের এপ্রিলের বেতনের প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি অনুমোদনের জন্য এখন মন্ত্রণালয় অনুমোদন না দিলে আমাদেরতো কিছু করার থাকে না। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হয়।
এদিকে এমপিওর অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানোর লক্ষ্যে গত ২২ এপ্রিল প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিল সাবমিট করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। নির্দেশনায় বলা হয়, ২৪ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে বিল জমা দিতে হবে। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বিল সাবমিট করেন।
বিল সাবমিট সংক্রান্ত নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানোর ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এমপিও সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যবহৃত নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (ইএমআইএস) এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করেন। এরপর প্রত্যেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য আলাদাভাবে বিধিমোতাবেক প্রাপ্য এমপিওর অর্থ নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করেন।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জমা দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাঠানো হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক এ পদ্ধতি চালুর ফলে এমপিও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
Leave a Reply