বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর মে মাসের বেতন এবং আসন্ন ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার বিল জমা দেওয়ার কার্যক্রম ১০ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১০মে গভীর রাত অবধি এই মে মাসের বেতন ও ঈদুল আযহার উৎসব ভাতার বিল সাবমিটের অপশন চালু করতে পারেনি মাউশির ইআইএমএস সেল। এই মাউশির ইআইএমএসসেলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। কারণ তাদের কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত ০৩রা মে মাউশির পক্ষ হতে জানানো হয়েছিল যে আগামী ১০মে হতে মে মাসের বেতন ও ঈদুল আযহার বিল সাবমিট করা যাবে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৩ তারিখের মধ্যে বিল সাবমিট সম্পূর্ণ করতে হবে।
তাদের দেওয়া তথ্য মতে, আজ ১০ মে সকাল থেকে বিল সাবমিট করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করলেও তা করতে পারেনি কারণ প্রতিষ্ঠানের ইএফটির ড্যাশবোর্ডে মে মাসের বেতন বিল ও ঈদুল আযহার উৎসব ভাতার বিল অপশন মাউশি চালুই করেনি। এ বিষয়ে ১০ মে সকাল ১১.৩০ মাউশির ইআইএমএস সেলে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছিল বিকাল হতে বিল সাবমিট অপশন চালু হবে কিন্তু বিকাল গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও সেই বিল অপশন চালু করতে পারেনি। এই বিষয়টি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ কাজ করছে। কেননা মাসের ১০ তারিখ গত হয়ে গেলে এখন অবধি এপ্রিল মাসের বেতন পাওয়া যায় নি। এরপরে যদি আবার উৎসব ভাতা এবং মাউশির কথা মতো মে মাসের বেতন বিল সঠিক সময়ে সাবমটি করতে না পারা যায় তাহলে তা ঈদের পূর্বে পাওয়া দুরহ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা আগামী ২৫ তারিখ হতে সরকারী ছুটি শুরু হবে।
সর্বশেষ এই বিষয় নিয়ে মাউশির ইআইএমসেলের প্রোগামার মোঃ জহির উদ্দিন সাহেবের সাথে রাত ১১.১০ যোগাযোগ করলে তিনি জানান আজ কাজ শেষ করতে পারেননি তারা। আগামীকাল দুপুর হতে বিল সাবমিট অপশন চালু হবে।
এখন অবস্থার প্রেক্ষিতে যা বোঝা যাচ্ছে আগামীকালের পূর্বে এই বিল সাবমিট করা যাবে বলে মনে হয় না। আগামীকাল হতেও যদি বিল সাবমিট শুরু হয় তাহলেও হয়ত তেমন সমস্যা হবে না। কিন্তু তারপরেও যদি দেরি হয় তাহলে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। কারণ শুধু তো বিল সাবমিট করলেই হয় না এরপরও আরও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক অনেক কাজ থাকে যা দ্রুততর সময়ের মধ্যে করলেও এক সপ্তাহের অধিক সময় লেগে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এরপর অনলাইনে বিল দাখিল করার পর তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত এবং সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের একটি আধুনিক পদ্ধতি চালু করেছে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং কার্যকর হয়েছে।
Leave a Reply