২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আনন্দমুখর করতে সরকার ইতোমধ্যে নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বর্তমানে পাঠ্যবই পরিবর্তন, সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ করছেন।
আজ শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় শিক্ষা, প্রকাশনা ও বই শিল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে আনন্দময় ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে হলে শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু উন্নত করলেই হবে না, বইয়ের কাগজের মান, ছাপার গুণগতমান এবং উপস্থাপনাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে বইয়ের বাহ্যিক মানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নোট ও গাইড বইনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষক এখনো নোট-গাইড অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র তৈরি করেন, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ প্রবণতা বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের হাতেও ট্যাব পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও বই প্রকাশনা ও বইমেলা আয়োজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বই প্রকাশনার সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রকাশকদের সংগঠনের যথাযথ অংশগ্রহণ নেই। এজন্য আগামী বছর থেকে বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি-এর পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিকেও সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে বইমেলার আয়োজনকে উৎসাহিত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এর ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বইপাঠের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সভায় প্রকাশনা খাতের প্রতিনিধিরা প্রকাশনা শিল্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পখাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রকাশনা খাত দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এখনো পর্যাপ্ত নীতিগত সহায়তা পাচ্ছে না। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে এবং আরও বিকশিত করতে স্বল্প সুদে ঋণ, কর সুবিধা এবং সরকারি নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
Leave a Reply