1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
Title :
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

যে কারণে তৃণমুল কংগ্রেসের ভরাডুবি আর বিজেপির জয়

  • Update Time : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৩৩১ Time View
তৃণমুল ও বিজেপি

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তাঁর জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ‘মা, মাটি ও মানুষ’ ছিল জনসমর্থনের মূল ভিত্তি। তবে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এতদিনের সেই অভেদ্য রাজনৈতিক দুর্গে এবার দৃশ্যমান ফাটল ধরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সংস্তুতি নাথ এ পরিবর্তনের পেছনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র আমূল বদলে দিয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৬০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের সীমা অনায়াসে অতিক্রম করেছে। বিপরীতে, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী সমীকরণ ও শক্তিশালী জনভিত্তি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে পাঁচটি নির্ধারক কারণ বিশেষভাবে সামনে এসেছে।

প্রথমত, নারী ভোটারদের ভূমিকা। এতদিন পশ্চিমবঙ্গের নারী ভোটাররা তৃণমূলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত হতেন। এর পেছনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘কন্যাশ্রী’র মতো জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিজেপি নারীদের নিরাপত্তা ইস্যুকে জোরালোভাবে সামনে এনে এই আস্থার জায়গাটিতে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে আর জি কর মেডিকেল কলেজের মর্মান্তিক ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। পানিহাটি আসনে নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা এবং কেন্দ্রীয় ধাঁচে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি তৃণমূলের এই ঐতিহ্যগত নারী ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, মুসলিম ভোটের পরিবর্তিত ধারা। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৮৫টি আসনের মধ্যে ৭৫টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে মুসলিম ভোটে উল্লেখযোগ্য বিভাজন দেখা গেছে। প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র দলের প্রভাব বৃদ্ধি এবং অনেক এলাকায় কংগ্রেসের পুনরুত্থান—এই তিনটি উপাদান একত্রে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ আধিপত্যকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, অভিবাসী বা পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রভাব। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই শ্রমিকদের নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আসা একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় হাজার হাজার শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে নিজ এলাকায় ফিরে এসে ভোট প্রদান করেন। বাইরের রাজ্যগুলোর উন্নয়ন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তারা যখন গ্রামে ফিরে আসেন, তখন তা স্থানীয় রাজনীতির প্রচলিত ধারায় পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চতুর্থত, মতুয়া সম্প্রদায়ের ভূমিকা। পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ এই সম্প্রদায়, যারা নির্বাচনে বরাবরই নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে প্রধান বিরোধী শক্তিতে পরিণত করার পেছনে তাদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালেও নাগরিকত্ব আইন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে বিজেপি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।

পঞ্চমত, বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির উত্থান। পশ্চিমবঙ্গ ঐতিহ্যগতভাবে একটি ‘ক্যাডার-ভিত্তিক’ রাজনৈতিক রাজ্য, যেখানে তৃণমূল স্তরের সংগঠনই নির্বাচনে জয়ের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে তৃণমূলের সমপর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বুথভিত্তিক সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রচার কৌশল এবং শুভেন্দু অধিকারী-র মতো প্রভাবশালী নেতাদের নেতৃত্বে বিজেপি মাঠপর্যায়ে তৃণমূলের শক্তিশালী অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, যখন তৃণমূল কংগ্রেস ১০০টি আসনের সীমা অতিক্রম করতেই সংগ্রাম করছে, তখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এই পাঁচটি কারণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme