দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতির ধারাবাহিক বিস্তারের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, এই প্রস্তাবিত বরাদ্দের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই জ্বালানি তেলের ভর্তুকি এবং সরকার পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে এককালীনভাবে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর করা সরকারের জন্য এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের সুপারিশমালা সরকারের কাছে জমা দিলেও সরকার পরিবর্তনের পর এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে সামনে রেখে ‘নবম পে-স্কেল’ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে। অর্থাৎ, একবারে পুরো কাঠামো কার্যকর না করে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকছে নীতিনির্ধারকরা।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি এখন আগামী জাতীয় বাজেটের ওপর নিবদ্ধ। তারা আশা করছেন, আসন্ন বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমান সময়ে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী আর্থিক সংকটে দিন পার করছেন। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের পর নতুন কোনো পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে, দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা হলে প্রশাসনের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a Reply